পিতা কর্তৃক দানকৃত সম্পত্তির দলিল জাল আখ্যায়িত করে জমি দখলের অপচেষ্টা গাইবান্ধায় হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

 ২৩ জুন ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

শেখ হুমায়ন হক্কানী, গাইবান্ধা থেকে ঃ

পিতা কর্তৃক হেবাবিল এওয়াজ দলিলমূলে দানকৃত সম্পত্তির দলিল জাল আখ্যায়িত করে ৪ বোন সংঘবদ্ধ হয়ে একমাত্র ভাইয়ের জমি ও বসতবাড়ি জবর দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এজন্য গাইবান্ধা জেলা শহরের পলাশপাড়ায় প্রয়াত হাছেন আলীর একমাত্র পুত্র হাবিবুর রহমানের বসতবাড়িতে একাধিকবার হামলা স্ত্রী পুত্র কন্যাদের অমানুষিক নির্যাতন, মারপিট ও একাধিক হয়রানিমূলক মামলা দায়েরসহ নানা অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিকার দাবি করা হয়েছে। শনিবার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী এবং স্কুল ও কলেজ পড়–য়া ছেলেমেয়েরা সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান উলেখ করেন, গত ২০ জুন তার মা এলিজা বেওয়া ও ৪ বোন হাসনা হেনা শিপন, শামছুন্নাহার তুহিন, মাহামুদা শরীফা, খাদিজা সম্পার সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য উপস্থাপন করেছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রকৃত পক্ষে বেআইনীভাবে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টায় এ সমস্ত মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এজন্য প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জন্যই এই সংবাদ সম্মেলনের আহবান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে হাবিবুরের পিতা হাছেন আলী জীবত থাকাকালে স্বেচ্ছায় নিজস্ব ও ক্রয়কৃত জমির মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৭ জুন ৩২৮২ নং হেবাবিল এওয়াজ দলিল মূলে ৪৭ শতক, ১৯৯৭ সালের ৯ এপ্রিল ৩২২৬/৯৭ নং হেবাবিল এওয়াজ দলিল মুলে সাড়ে ১৯ শতক এবং ১৯৯৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে ৮২১৭ নং হেবাবিল এওয়াজ দলিল মুলে ১৮ শতকসহ মোট সাড়ে ৮৪ শতক জমি তাকে দানপত্র করেন। দানকৃত জমি যথারীতি খারিজ খতিয়ান এবং নিয়মানুযায়ি খাজনাও পরিশোধ করা হয়। প্রসঙ্গত উলেখ যে, তার মা এলিজা বেওয়া ও বোনরা পিতার বৃদ্ধ বয়সে চরম অবহেলা ও তার সাথে খারাপ আচরণ করতো। সে কারণে পিতা হাছেন আলী স্ত্রী ও কন্যাদের প্রতি চরম রুষ্ট ছিল। একপর্যায়ে তার মা ও বোনরা বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকেও বের করে দেয়। এরপর থেকে পিতার মৃত্যু পর্যন্তপুত্র হাবিবুর রহমান তার বাড়িতেই পিতাকে প্রতিপালন করে বলে উলেখ করা হয়। এমতাবস্থায় পুত্র হাবিবুর রহমান মা ও বোনদের প্রতি খোরপোশের সকল ব্যয়ও নির্বাহ করতেন। অতপর দানপত্র দলিল মূলে জমির মালিকানা প্রাপ্ত হওয়ার পর হাবিবুর রহমান হরিণসিংহা মৌজার ৬ শতক জমি পুজা মন্ডপের বরাবরে এবং সংলগ্ন ৪১ শতক জমি ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বেসরকারি সংস্থা এসকেএস ফাউণ্ডেশনের বরাবরে বিক্রয় করে। ক্রয়কৃত উক্ত জমিতে এসকেএস ফাউণ্ডেশন যথারীতি বিধি মোতাবেক নামজারি করে সরকারি কর পরিশোধ করে দৃশ্যমান ছয়তলা বিল্ডিং নির্মাণ করে ২০১০ সাল থেকে সংস্থার প্রধান কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। উলেখ্য, এসকেএস ফাউণ্ডেশন উক্ত জমি ক্রয় করার পূর্বে ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর পত্রিকায় নিয়মানুসারে যথারীতি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেসময় এবং ভবন নির্মাণ এবং অফিস চালু করাকালিন সময়ে উক্ত জমাজমির মালিকানা সংক্রান্ত বিন্দুমাত্র কোন প্রতিবাদও করা হয়নি। অথচ পিতার মৃত্যুর পরেই মা ও বোনরা পিতা প্রদত্ত উক্ত ৩টি দানপত্র দলিলকে জাল হিসেবে আখ্যায়িত করতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। অতপর মা ও বোনরা ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই গাইবান্ধার বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অন্য ১৬০/১৪ নং মামলা দায়ের করে হাবিবুর রহমানের অজ্ঞাতে একতরফা ডিক্রি প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে অন্য ১৬০/১৪ নম্বর মামলার প্রাপ্ত একতরফা ডিক্রী বাতিলের জন্য ৩৫/১৭ (অন্য বিজ্ঞাপনি) মোকদ্দমা দায়ের করে এবং হাবিবুর উক্ত মামলার রায়ের বিরুদ্ধে ৫২/১৭ নং (ছানী) মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। মা এলিজা বেগম ও বোনরা পুনরায় তার পিতা কর্তৃক প্রদত্ত ৩২২৬ ও ৮২১৭ নং হেবাাবিল এওয়াজ দলিল এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে অন্য ০৬/১৪ নং মোকদ্দমা দায়ের করে। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত পিতা হাছেন আলী এর স্বাক্ষর/টিপসহি এক্সপার্ট করার আদেশ প্রদান করলেও তাহারা প্রকৃত সত্য উন্মোচনের ভয়ে অদ্যাবধি উক্ত মামলায় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে সময়ক্ষেপণ করছে বলেও উলেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নাহার লিনা ও তার ছেলেমেয়েরা উপস্থিত ছিলেন।