হত্যাকান্ডের বিচার, পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরতসহ ৭ দফা দাবি আদায়ে গাইবান্ধায় পুলিশী বাধার মুখে গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের বিক্ষোভ মিছিল অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদান

 ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

গাইবান্ধা থেকে শেখ হুমায়ুন হক্কানী ঃ

গাইবান্ধায় পুলিশি বাধার মুখে বুধবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জের আদিবাসি সাঁওতালরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদান এবং বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী পালন করে। পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরৎ দেয়াসহ সাতদফা দাবীতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালিত হয়। সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জন উদ্যোগ ও গাইবান্ধা আদিবাসী

বাঙ্গালী সংহতি পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচী পালন করে। গাইবান্ধা শহরের সিপিবি কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে সাঁওতালরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশের বাঁধার মুখে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেটের সামনে অবস্থান নেয়। অবস্থান চলাকালে সিপিবি জেলা শাখার সভাপতি মিহির ঘোষ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন সরেন, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, প্রবীর চক্রবর্তী বক্তব্য দেন। পরে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের হাতে দাবী দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন তারা। এসময় জেলা প্রশাসক তাদের দাবী দাওয়া গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দেন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রবীন সরেন বলেন, পাকিস্তান আমলে আদিবাসী ও বাঙ্গালীদের কাছ থেকে তৎকালীন সরকার রংপুর চিনিকলের জন্য আখ চাষের শর্তে ১৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণের শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় সাওতাল ও বাঙ্গালীদের জমি ফেরৎ না দেয়ায় গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের বাগদা ফার্মে বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসতি গড়ে তোলে সাওতালরা। সেখানে সাওতালদের ঝুপড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশ গুলি চালিয়ে সাওতালদের হত্যা করা। তারা সাওতালদের বসতি উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবী করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙ্গালীদের পাশাপাশি এই সাওতালরাও সেদিন পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেই সাওতালরা আজ ভালো নেই। সিপিবি জেলা শাখার সভাপতি মিহির ঘোষ সাঁওতালদের সাতদফা দাবী বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে অভিযোগ করেন, ডিসি অফিসে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচীতে যোগ দেয়ার জন্য গোবিন্দগঞ্জ থেকে গাইবান্ধায় আসার সময় পথে পথে সাওতালদের পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়। তিনি সাওতালদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানান। গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বাঁধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শান্তিপূর্ণ কোন কর্মসূচীতে পুলিশ কখনোই বাধা দিতে পারে না। জননিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সব সময় দায়িত্ব পালন করে। কর্মসূচী পালনের নামে কেউ যাতে কোন বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে পুলিশ সব সময় সেদিকে খেয়াল রাখে।