নাফনদী সাঁতরে এলো আরও ৬ রোহিঙ্গা কিশোর

 ৫ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন 

অনলাইন ডেস্কঃ

প্লাস্টিকের জার ধরে নাফনদী সাতঁরে এলো ৬ রোহিঙ্গা কিশোর। ৪ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্লাস্টিক জার ধরে সাঁতরে তারা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাট এলাকায় পৌঁছলে বিজিবি তাদেরকে উদ্ধার করে।

বিজিবি শাহপরীরদ্বীপ কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল জলিল সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান শনিবার আসা ৬ জন সহ মোট ৫১ জন রোহিঙ্গা সাঁতার দিয়ে এপারে এসেছে। শনিবার আসা ৬ জনের মধ্যে ৪ জন রাখাইনের বুচিডং গোদাম পাড়া ও ২ জন চিন্দিপ্রাং এর বাসিন্দা। ৬ রোহিঙ্গা হচ্ছে আমান উল্লাহ, কামাল হোসন, বেলাল উদ্দীন,রবিউল হাসান, মোঃ সাদেক, আবদুল করিম।

তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাখাইনের নাফ নদী তীরবর্তী ডংখালী এলাকা থেকে শনিবার বিকালে তারা সাঁতার শুরু করে। নদীতে স্রোতের অনুকূলে অল্পসময়ে তারা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে পৌঁছে যায়। এর আগে প্রায় মাস দেড়েক আগে তারা গ্রাম থেকে বের হয়। গত ১২ দিন যাবৎ তারা সেখানে ছিল।  

ডংখালী এলাকায় এখনো ১৫ হাজারের মতো রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এপারে আসার জন্য। সেখানে তাদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর সেখানে মাঝে মধ্যে কিছু কিছু খাদ্য সহায়তা দিলেও তা ছিল খুবই অপ্রতুল বলে জানায় তারা। অসংখ্য লোক সেখানে অনাহরে-অর্ধাহারে রয়েছে।  

এছাড়া পানিবাহিত রোগে নারী শিশুসহ অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে তারা ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে আসে। স্থানীয় বাজার থেকে তারা প্লাস্টিক জারগুলো সংগ্রহ করেছে বলে জানায় তারা। তাদের সবার বয়স ১৭-১৯ বছরের মধ্যে।

বিজিবি জানিয়েছে বরাবরের মতো তাদেরকে হারিয়াখালী অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মাধ্যমে উখিয়ার অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত চার দফায় নাফনদী সাঁতরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিল ২৩ রোহিঙ্গা যুবক। প্রথমবার গত ১১ অক্টোবর ১১ জন এবং শেষ তিন বারে চার জন করে ১২ জন। সর্বশেষ গতকাল একযোগে আসে ১৯সহ ২২ রোহিঙ্গা  । এ নিয়ে ৬ দফায় নাফনদী সাঁতরিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ সীমান্তে ঢুকেছে ৫১ জন রোহিঙ্গা।