পাচারকারীর ১২ হাজার টাকা জরিমানা! অতঃপর বীরদর্পে এলাকায় গমন

 ৩০নভেম্বর ২০১৭ বৃহ্সপতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন     

অনলাইনডেস্কঃ

কক্সবাজারের টেকনাফের আলোচিত সেই কবিরা ১২ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বেঁচে গেলেন কঠিন শাস্তি হতে। এলাকার চিহ্নিত মানব পাচারকারী হওয়ার পরও এভাবে গুরু পাপে লগু দণ্ড হওয়ায় বিস্মিত হয়েছে এলাকার সচেতন মহল।

কেউ কেউ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে স্থানীয় প্রশাসনের এটি আত্মসমর্পণ বলেও মন্তব্য করছেন।

টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ ঘোলাপাড়ার চিহ্নিত মানব পাচারকারী কবির আহমদ ওরফে কবিরা। তিনি অনেক বছর ধরে সীমান্তে দায়িত্বরত দুই দেশের বিভিন্ন সংস্থার কতিপয় সদস্যকে ম্যানেজ করে মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রীক মানব পাচার ছাড়াও ইয়াবা ও স্বর্ণেন চালান পাচারকাজে নিয়োজিত রয়েছে এমন অভিযোগ বহু পুরানো। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। তবে সেই সব মামলা হতে সে জামিনে রয়েছেন।

এদিকে বুধবার সকালে শাহপরীর দ্বীপের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদে শাহপরীরদ্বীপ মিস্ত্রি পাড়া বাজার থেকে রোহিঙ্গা পাচারের অভিযোগে তাকে আটক করে। আটকের পর তাকে টেকনাফ থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি ) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে মোবাইল র্কোট পরিচালনা করে তাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর  মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সা শোভাযাত্রার মাধ্যমে সন্ধ্যায় এলাকায় বীরদর্পে পৌঁছে এ র্শীষ মানব পাচারকারী।

 

প্রশাসন যখন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী দালাল আটক শুরু করে তখন কবির আহমদ কবিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও সম্প্রতি প্রশাসনের বিভিন্ন স্থর ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে আসে বলে জানিয়েছেন এলাকার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন। নির্ভরযোগ্য একটি সুত্রমতে, সাবেক ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ ও টেকনাফে অবস্থানরত দলিল লেখক তার জামাতা মৌঃ ইদ্রিস আইনী সাজা কমিয়ে আনতে মোটা অংকের মিশন নিয়ে মাঠে নামে। এ মিশন সফলতার মূখ দেখে জরিমানায় শেষ হয়ে যায়। এতে সর্বত্র তোলপাড় চলছে।  

শাহপরীরদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব সোনা আলী বলেন, এত বড় চিহ্নিত মানব পাচারকারী ধরা হলো আর ১২ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বীরদর্পে এলাকায় মোটর শোভাযাত্রায় ফিরে এলো। এর চেয়ে দুঃখজনক পরিস্থিতি আর কি হতে পারে। এভাবে চললে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কিভাবে ঠেকানো সম্ভব এমন প্রশ্ন জুড়ে দেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।  

এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান জানায়, রোহিঙ্গা পাচারের অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা খুজেঁ পাওয়া গেলেও তার ওয়ারেন্ট পাওয়া যায়নি। পরে তাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।