শাওনের জ্বালানি ও চালকবিহীন গাড়ি

 ২৯ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

প্লাস্টিক বোর্ড, রঙিন থাই গ্লাস, লোহার অ্যাঙ্গেল, পুরানো অটোরিক্সার চাকা দিয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জ্বালানি ও চালকবিহীন একটি প্রাইভেটকার আবিষ্কার করেছে এক শিক্ষার্থী। 

বাংলাদেশ প্লানেটর কলেজের রোবটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মাহবুবুর রহমান শাওন। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রায় একমাস কঠোর পরিশ্রম করে গাড়িটি তৈরি করেন শাওন। 

রবিবার দুপুরে কুয়াকাটা-কলাপাড়া মহাসড়কে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়িটি চালানো হয়। 

ক্ষুদে এই বিজ্ঞানীর সফলতা এক নজর দেখতে মহাসড়কে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করেন। এর আগে ওই শিক্ষার্থী সিকিউরিটি অ্যালারাম, মোবাইলের ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, সেন্সর লাইট, স্মার্ট সুইস, মোবাইল সুইস, ড্রোন বিমান, মোবাইলের মাধ্যমে সুইস অন অফ আবিষ্কার করে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দেয়।

মাহবুবুর রহমান শাওন জানান, গাড়িটি নিজ থেকে নিয়ন্ত্রণ হতে পারবে। জন্ম দিবে না কোন দুর্ঘটনার। এটি কোন পথচারীকে আঘাত করবে না কিংবা চাপা দিবে না। কেড়ে নিবে না কোন মানুষের প্রাণ। এছাড়া গাড়িটির বিশেষ কিছু গুণ রয়েছে। চলতে কোন জ্বালানির প্রয়োজন হবে না। 

সৌরশক্তির উপর নির্ভর করে চলবে। সে নিজে থেকে হর্ন দিতে পারবে। অন্য যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে চলতে পারবে। নিজে থেকে সিগন্যাল বাতি জ্বালিয়ে অন্য গাড়িকে সংকেত দিতে পারবে। এমনকি গাড়িটি চুরি করাও অসম্ভব। গাড়িটি কেউ স্পর্শ করলে গাড়িটি নিজেই মোবাইলে মাধ্যমে কল করে জানাতে সক্ষম হবে। আমি যদি সরকারি সহযোগিতা পাই তাহলে আরও ভালোভাবে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গাড়িটিকে সচরাচার চলার উপযোগী করতে পারবে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে তার বাড়ি। মাদরাসা শিক্ষক নাসির উদ্দিনের ছেলে শাওন ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু আবিষ্কার করা তার নেশা। পড়াশোনার পাশাপাশি সে খেলাধুলা হিসেবে বেছে নেয় ইলেক্ট্রিকাল যন্ত্রপাতি। সেই খেলাধুলা থেকেই আবিষ্কারের প্রতি ঝুঁকে পরে। তবে তার বাবা-মাও সব সময় তাকে নানা ভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ যোগাত। বছর দুই এক আগে শাওন সি-প্লেন তৈরি করে পরীক্ষামূলক নদীতে চালিয়ে ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান জানান, মাহবুবুর রহমান শাওন জ্বালানি সাশ্রয়ী চালকবিহীন পরিবেশ বান্ধব গাড়িসহ বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।

পর্যটক আরিফুর রহমান জানান, যেখানে কোন প্রযুক্তির ছোঁয়া নেই সে জনপদের একটি গ্রামের শিক্ষার্থী নতুন কিছু আবিষ্কার করা এটি অবিশ্বাস বিষয়। তবে রাস্তায় সোলার সিস্টেম গাড়ি চলতে দেখে ভালোই লেগেছে। আমিও উৎসুক জনতাদের কাতারে দাঁড়িয়ে দেখলাম।

শাওনের বাবা মাদরাসা শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার চেয়ে নানা যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করতো শাওন। তার খেলাধুলার অংশই ছিল আবিষ্কার। ছেলের এমন আগ্রহ দেখে তাকে বাধা না দিয়ে যখন যা চেয়েছে কিনে দিয়েছি।