দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে অনিশ্চয়তা

 ২ জুন ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহর মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ধরে নিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকরা। তাদের মতে, সাদিকের বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ত্রী পদমর্যাদার আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের অন্যতম সদস্য। এদিকে গত কয়েক বছরে সাদিক তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে একটা অবস্থান করে নিয়েছেন। এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ সাদিককে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশসহ মতামত পাঠিয়েছে দলীয় সভানেত্রীর কাছে। সব মিলিয়ে বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহই মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। তবে সাদিককে মেয়র পদে একতরফা জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নন আওয়ামী লীগের অন্য সিনিয়র নেতারা। তাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুদুল হক খান মামুন অন্যতম। তারা দুজনই দলীয় মনোনয়ন কিনবেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন। আবার নির্বাচনে তীব্র আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে প্রকাশ করতে পারছেন না অনেকেই। তাদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, সহসভাপতি চেম্বার সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু অন্যতম বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তাদের মতে, ন্যায়নিষ্ঠা, ত্যাগ-বঞ্চনা, দলীয় আনুগত্য, ব্যক্তিত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিকতা সবকিছুর বিচারে যোগ্যকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে কেউ একতরফা সুবিধা পাবেন না বলে মনে করেন তারা। মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খান মামুনের দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই যোগ্য দাবিদার। দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে তার আশা। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই প্রার্থী হতে আদাজল খেয়ে নামেন। তিনি বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ দলীয় সভানেত্রীর এখতিয়ার। দল যাকে মনোনয়ন দেবে সবাই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে গতবারের সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন দলীয় চেয়ারপারসনের অনুরোধে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন। ওই সময় বিএনপি চেয়ারপারসন পরবর্তীতে তাকে মনোনয়ন দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন বলে জানান তিনি। তাই এবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

এ ছাড়া বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন এবং মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়াও মনোনয়ন চাইবেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বিদায়ী মেয়র আহসান হাবিব কামাল বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও তিনি পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন। তবে কামালকে নিয়ে আপত্তির শেষ নেই শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন বলেন, যারা সব সময় দলের সঙ্গে আছেন, যারা দুঃসময়ে মাঠে ছিলেন, নেতা-কর্মীদের ছায়া দিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে কেউ মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিতে পারে দল। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শক্তভাবে মোকাবিলা করতে বরিশালে সরোয়ারের বিকল্প নেই বলে মনে করেন জেলা যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ আকন বিপ্লব। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে প্রার্থী নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইতিমধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন বাসদ ও কমিউনিস্ট পার্টি। জেলা বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তী এবং জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ নিজ নিজ দল থেকে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন তাপসও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল। এদিকে চরমোনাই পীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তাদের প্রার্থী স্পষ্ট নয়।