এক মাসের ছুটিতে প্রধান বিচারপতি

 ০৩ অক্টোবর ২০১৭ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন 

অনলাইন ডেস্কঃ

আজ থেকে এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)। ফলে এক মাসের অবকাশ শেষে আজ সুপ্রিম কোর্ট খোলার দিন থেকেই এক মাসের ছুটিতে থাকবেন এস কে সিনহা।

প্রধান বিচারপতির এই ছুটির বিষয়টি গতকাল সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি হিসেবে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ আছে এস কে সিনহার।

অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, আমি যতদূর জানি, উনি (বিচারপতি সিনহা) মঙ্গলবার থেকে ছুটিতে যাবেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন কিছু বলতে চাননি।

এদিকে প্রধান বিচারপতি সিনহা ছুটিতে গেলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার প্রধান বিচারপতির ছুটিকালীন দায়িত্ব পালন করার কথা। তবে রাষ্ট্রপতি যাকে নিয়োগ দেবেন তিনিই মূলত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিচারপতি এস কে সিনহা। আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেওয়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এদিকে তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর এস কে সিনহার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবেন। এক মাসের অবকাশ শেষে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট খুলছে। সুপ্রিম কোর্ট খোলার ঠিক এক দিন আগে প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সিনহার রাষ্ট্রপতির কাছে ছুটির আবেদনের বিষয়টি প্রকাশ পেল। যাতে আজ থেকেই তিনি ছুটিতে যাওয়ার কথা বলেছেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি চলার সময় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপান ও কানাডা সফর করেন। প্রথমে জাপানে গিয়েছিলেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিচারপতিদের সম্মেলনে যোগ দিতে। সেখান থেকে তিনি কানাডায় যান অসুস্থ মেয়েকে দেখতে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে পাস হয়। এটা ছিল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে হাই কোর্টে এক রিট আবেদন করেন। হাই কোর্ট ২০১৬ সালে সংবিধানের ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। পরে এ বছর ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন। গত ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির নানা বিষয়ে মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আপিল বিভাগের ওই রায়ে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধান বিচারপতি।

অভিযোগ ওঠে, আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খাটো করেছেন। এ নিয়ে বেশ কিছু দিন উত্তপ্ত ছিল রাজনীতির মাঠ। সরকার সমর্থকরা ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি সরকারি দলের নেতা, সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংসদের গত অধিবেশনে রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সমালোচনা করেন এমপিরা। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। ওই প্রস্তাব পাসের আগে সংসদে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে পাস করা সংবিধান সংশোধন বাতিলের এই রায় দিয়েছে। ‘সংসদ ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে’ এই রায় দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন ধরনের কথা বলে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। অন্যদিকে ওই রায়ের পর প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন কেউ কেউ। প্রসঙ্গত, রায় নিয়ে সমালোচনার মুখে বিচারপতি সিনহা আদালতে শুনানিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সে সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পরের পরিস্থিতির দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্য ধরেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করায় নতুন করে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে পরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘মিসকোট’ করে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

এমনকি ষোড়শ সংশোধন বাতিলের ওই রায়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।