শরিকদের সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনী প্রস্তুতি আওয়ামী লীগে

 ২৫ ফেব্রুয়ারী২০১৮ রবিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১৪ দলের শরিক দলগুলো। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি আসন নিয়েও দলগুলোর আলোচনা চলছে ভিতরে ভিতরে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা বিএনপির নির্বাচনের অংশগ্রহণ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না তারা। আওয়ামী লীগের মতো শরিকদের ভাবনায়ও কেবলই নির্বাচন। তাদের মতে, খালেদা জিয়ার কারাবাস-জামিনে মুক্তিলাভ সবই আলাদা দলের বিষয়। আবার বিএনপি দশম সংসদের  মতো এবারও নির্বাচন বর্জন করলে তাদের কিছুই করার নেই। আওয়ামী  লীগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকারের উন্নয়ন ও নিজেদের আদর্শ তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসাই তাদের লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা চুরি করার শাস্তি ভোগ করছেন। খালেদার ভাগ্য এখন নির্ধারণ করবে আদালত। এখানে সরকারের কিছুই করার নেই। নিজেদের নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন না হলে দেশে অরাজকতা তৈরি হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা গণতন্ত্র হত্যাকারীকে নির্বাচিত করবেন, নাকি গণতন্ত্র রক্ষাকারীকে নির্বাচিত করবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলকে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে আওয়ামী লীগ। এ জন্য জেলা-উপজেলায় সফর, সরকারের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সভা-সেমিনার করছে। সরকারের উন্নয়ন প্রচারে জোর দিয়ে ভোট বাড়াতে মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি ও মন্ত্রীরা। এই মুহূর্তে বিএনপির আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে ভাবছেন না তারা। ‘বিএনপি নেত্রী জেলে-তারা বলছেন খালেদাকে ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না’— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গত সোমবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি ২০১৪ সালেও নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, এবারও পারবে না। আমরা জানতাম তারা গতবার নির্বাচনে আসবে, কিন্তু তারা আসেনি। এখন যদি কেউ না আসে, সেখানে আমাদের করার কিছু নাই। মাল্টিপার্টি সিস্টেম এখানে, বহুদলীয় গণতন্ত্র। কোন দল নির্বাচন করবে, কোন দল করবে না সেটা সম্পূর্ণ তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু নির্বাচন সময় হতে হবে, জনগণও ভোট দেবে।’ আগামী নির্বাচন দেশ ও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার গত ৯ বছরের শাসনামলে কী কী কাজ করেছে তা ব্যাপক প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ সিকদার বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হয়েই নির্বাচন করব। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়েই নির্বাচন হবে। কেউ নির্বাচনে না এলে আমাদের কিছু করার নেই।’ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু  বলেন, ‘দলের উন্নয়ন প্রচার করতে দলীয় সভানেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জেলায় জেলায় সফর করছি। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছি। বিএনপিকে নিয়ে ভাবছি না।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, জনসমর্থন যাচাই ও দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল সফরে নেমেছে আওয়ামী লীগ। সফরে জেলা-উপজেলা নেতাদের সঙ্গে দলের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও আগামী নির্বাচনে অধিকতর যোগ্যতম প্রার্থী নির্ধারণে কাজ চলছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত এ সফর চলবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ  বলেন, আমরা সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে তৃণমূলে যাচ্ছি। জনগণের সাড়াও পাচ্ছি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য দেশবাসী আবার শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসাবে।’ দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দুর্নীতির দায়ে যে দলের নেত্রীর সাজা হয়, সেই দলকে নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা জনগণের কাছে গিয়ে আহ্বান জানাচ্ছি, দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে চান, নাকি জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের দেশে ফিরে যেতে চান? আমরা বিএনপির আগুন সন্ত্রাস-জ্বালাও-পোড়াও এবং দুর্নীতির চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরছি।’