খালেদার মুক্তি ইস্যুতেই আটকে আছে সব

 ২৭ ফেব্রুয়ারী২০১৮ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য। চেয়ারপারসনের মুক্তির পর নির্বাচনী প্রস্তুতি কার্যক্রম আরও জোরালো করা হবে। শুরু করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ। তবে তার আগে ঘরে-বাইরে নানা চাপের মুখে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে চায় দলটি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেক নেতা-কর্মীর প্রতি নিজেকে সুস্থ রাখাসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দল থেকে। সেগুলোর মধ্যে প্রথম নির্দেশনাটিই হলো- নিজেকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখা। দ্বিতীয়ত, দলীয় ঐক্য ধরে রেখে সম্মিলিতভাবে দল গৃহীত সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা এবং বিপদগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। তৃতীয়ত, আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ। পাশাপাশি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা। দলের নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লিখিত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্য থেকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ প্রসঙ্গে  বলেন, বিএনপি সব সময়ই নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এ জন্য আমরা সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। যাতে জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগের মামলায় সাজা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে সরকার। আমরা তার মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে ছাড়া আমরা নির্বাচনের চিন্তাও করতে পারি না। সে জন্য আগে চেয়ারপারসনের কারামুক্তি, তারপর অন্যান্য কার্যক্রম। তবে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিটা ‘অটোমেটিক্যালি’ই হয়ে যায়। তা ছাড়া নির্বাচনী প্রস্তুতি আমাদের সব সময়ই রয়েছে। তবে সরকার যত চেষ্টাই করুক না কেন, চেয়ারপারসনকে বাইরে রেখে কোনো রকমের নির্বাচনে বিএনপি কখনো অংশগ্রহণ করবে না। সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটিসহ বিভিন্ন স্তরের কমিটির নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করে গেছেন। পাশাপাশি কারাগারে যাওয়ার দুই দিন আগে তিনি পুণ্যভূমি সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) এবং হজরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে আসেন। একই সঙ্গে বার বার দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি যে কোনো মূল্যে দলীয় ঐক্য ধরে রেখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দলের স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটির সিনিয়র নেতা এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে টানা চার দিন বৈঠক করেন তিনি। অতঃপর আদালতের রায়ে কারাগারে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে যান। এ সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনেও যাবে, নির্বাচনের ইশতেহারও তৈরি করবে। তার আগে আমাদের চেয়ারপারসনের মুক্তিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সরকার নির্বাচনের এই বছরে (২০১৮) দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে এবং বেগম জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন এই ভুলের মাশুল সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরও জানান, যে কোনো রাজনৈতিক দলেই যে কোনো সময়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি থাকে। বিএনপিরও আছে। বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হোক, সরকার আমাদের দাবি পূরণ করুক এবং নির্বাচনের সময় সামনে আসুক, তখন না হয় নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হবে।