তৃণমূলে দল ও জোট চাঙ্গা করবে আওয়ামী লীগ

 ১৯ মে ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় এবার রমজান মাসে চলবে ‘রাজনীতির ইফতার’। এতে তৃণমূল, জোট ও ভোট গোছানোর কাজ করবে আওয়ামী লীগ। ইফতার পার্টির মাধ্যমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চাঙ্গার পাশাপাশি সরকারের প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন আদায়ের জোর চেষ্টা চালাবে দলটি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে থাকবে ইফতার আয়োজন। ঈদের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর রয়েছে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভোট। আগামী ডিসেম্বরে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফলে তৃণমূলকে আরও সুসংগঠিত করতে রমজান মাসে আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের স্ব স্ব এলাকায় গিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও ইফতার রাজনীতিকে বেছে নিচ্ছেন জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রমজান মাস জুড়ে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন থাকবে। এর মাধ্যমে দল ও জোটকে শক্তিশালী করা হবে। দলীয় সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ইফতারের আয়োজন না করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এ বছর আগামী ছয় দিন ইফতার কর্মসূচি রেখেছেন। এর মধ্যে ২১ মে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, এতিম, প্রতিবন্ধী শিশু ও আলেমদের সঙ্গে; ২৩ মে বিচারপতি, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা (সামরিক/বেসমারিক); ২৮ মে পেশাজীবী; ২ জুন আত্মীয়-পরিজন, ৪ জুন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ৬ জুন আইনজীবীদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মাসব্যাপী ইফতার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যত দল ও দলের সহযোগী সব সংগঠনের নেতা-কর্মীকে চাঙা করা হবে। শুধু ঢাকাতেই নয়, ইফতার রাজনীতি তৃণমূলে প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। ইফতার রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই জমে উঠবে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। রমজানে গরিব-দুঃখীদের মধ্যে ইফতারিসামগ্রী, জামাকাপড় ও জাকাত বিতরণের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা আদায়ের চেষ্টায় থাকবেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। এ ছাড়া তৃণমূলে যেসব নেতা-কর্মীর সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব রয়েছে, তা নিরসনের চেষ্টা করবেন এবারের রমজানে। জানা গেছে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না এলেও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক রাজনীতি করবে রমজান মাস জুড়েই। প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইফতারের আয়োজন রাখা হচ্ছে। মহানগরী আওয়ামী লীগের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা। আওয়ামী লীগ মনে করছে, ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দল চাঙা হবে। এসব কর্মসূচিতে মন্ত্রীরাও অংশ নেবেন। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রমজানে নেতা-কর্মী ও এমপি-মন্ত্রীদের নিজ নিজ এলাকায় যেতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আসা করি পবিত্র রমজান মাসে তারা স্থানীয় নেতা-কর্মী, ১৪ দলের শরিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এতে দল ও ১৪ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে মনে করি।’ দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুখ দেখে নয়, জরিপ দেখে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে— শেখ হাসিনার এমন ঘোষণায় এমপি-মন্ত্রীরা এখন অনেকটাই এলাকামুখী। তাদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও নির্বাচনী এলাকার গ্রাম-ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘রমজান মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও দলের নেতা-কর্মীদের আয়োজনে বিভাগীয়, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি অনির্ধারিত আলোচনায় দলের বর্তমান অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। রমজানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও ইফতারে অংশ নিয়ে আমরা দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করব।’ আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকটি জেলায় ইফতারে অংশ নেব। রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও সারা দেশ সফরে যাবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।