যুবলীগের টার্গেট নির্বাচন কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি

 ২৭ মে ২০১৮ রবিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

কেন্দ্রীয় কংগ্রেস বা সম্মেলন নিয়ে এই মুহূর্তে ভাবছে না আওয়ামী যুবলীগ। জাতীয় নির্বাচনের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে জেলা সম্মেলন। যুবলীগের লক্ষ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনা। এ জন্য রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গঠন করা হচ্ছে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অধীনে ১০০টি নির্বাচনী টিম গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে। ঈদের পর শুরু হবে গ্রাম পর্যায়ের কমিটি।  

গত সাড়ে ৯ বছর টানা ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে আন্দোলনের মাঠে নামতে হয়নি। বিরোধী দলে থাকতে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আওয়ামী লীগের ছয় সহযোগী সংগঠন ও দুই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন দিবসভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও যুবলীগ কিছুটা ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এ সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণা সেল গঠন করে ইতিমধ্যে ৬০০-এর ওপরে বই ও পুস্তক প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া তারা আগস্ট মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনী, ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রন্থমেলাসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। 

সংগঠনের তৃণমূলের কিছু নেতা-কর্মী বিচ্ছিন্ন কিছু কর্মকাণ্ডে সমালোচিত হলেও তা অতীতের মতো নয়। যারাই বিভিন্ন অপকর্মে জড়াচ্ছেন তাদের কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৪ জুলাই ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন। বর্তমান কমিটি সারা দেশে ২৭টি জেলা সম্মেলন করতে সক্ষম হয়েছে। আপাতত জেলা সম্মেলন করা হচ্ছে না।

যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারণে জেলা সম্মেলন আপাতত বন্ধ রাখছি। এই মুহূর্তে আমাদের কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যাকেই মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষে কাজ করব। সারা দেশে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। ইতিমধ্যে সে প্রক্রিয়া শুরুও হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আমাদের শিখিয়েছেন, আন্দোলন মানেই সংগঠন। সংগঠন মানে কর্মসূচি। আমাদের এখন রাজপথে আন্দোলন করতে হয় না। দিবসভিত্তিক কর্মসূচির পাশাপাশি আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনীতি ও কর্মময় জীবনের ওপর গবেষণা করছি। ইতিমধ্যে ৬০০-এর ওপর প্রকাশনা বের করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা রাষ্ট্রনায়ক উপাধি দিয়েছি। তিনি বলেন, যুবলীগের সম্মেলনে কোনো চেয়ার ছোড়াছুড়ি হয়নি। মানুষকে সম্মান দেয়। সম্মান না দিলে ঐক্য হয় না। শুধু কাউয়া আছে বলে বিভাজন তৈরি করে না।’

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু, ভাষা আন্দোলন, রাজনীতি ও গণতন্ত্রসহ বেশ কিছু বিষয়ে চার শতাধিক প্রকাশনা প্রকাশ করেছে যুব জাগরণ। সংগঠনের যে কোনো আয়োজন যেমন, সভা-সমাবেশে থাকে বইয়ের স্টল। রাজধানীর কাকরাইল, ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়কে প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। এখানে যুবলীগের প্রকাশনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের লেখা বই এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা কম মূল্যে বিক্রি করা হয়। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, যুবলীগের মালিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনি যখন চাইবেন-তখনই আমরা কংগ্রেস করতে প্রস্তুত। আমরা ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি। তিনি বলেন, আমরা সারা দেশে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করে সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরছি। ওই কমিটিই জাতীয় নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ১০০ নির্বাচনী টিম : যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ ইতিমধ্যে ১০০ নির্বাচনী টিম গঠন করেছেন। এই টিমের মূল কাজ হচ্ছে, সংসদ নির্বাচনের আগে নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা এবং নির্বাচনী কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে ওই কমিটিতে। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, ইতিমধ্যে ১০০টি টিম গঠন করে আমরা নৌকার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছি। কমিটির নেতারা প্রতি সপ্তাহে এলাকাভিত্তিক মিটিং করেন। ওই মিটিংয়ে সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনগুলো তুলে ধরা হয়। যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম উপস্থিত থাকেন। এতে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগও কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।