দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতেই আবদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ

 ৩০ মে ২০১৮ বুধবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ১১ জুলাই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদে শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের ডেকে দ্রুত সম্মেলনের তাগিদ দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় তিন সংগঠনের সম্মেলন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্মেলনের উদ্যোগ নেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের। শুধু কেন্দ্রই নয়, রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয় না এক যুগ। কবে হবে তাও কেউ বলতে পারে না। অনেক জেলা, মহানগর ও উপজেলায়ও একই অবস্থা। তবে সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যখই চাইবেন, তখনই সম্মেলন দিতে তারা প্রস্তুত। মূল দল আওয়ামী লীগ টানা নয় বছর ধরে ক্ষমতায়। রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম নাই। সে কারণে দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সংগঠনের নেতারা। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা রাজপথে ছিলেন। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সংগঠন শক্তিশালী করার চেয়ে পদধারীদের কেউ কেউ নিজে শক্তিশালী হওয়ার মিশনে নেমে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে রয়েছে গণপূর্ত ভবন, শিক্ষা ভবন, বিদ্যুৎ ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন জায়গায় টেন্ডারবাজির অভিযোগ। কেউ কেউ বিশেষ একটি এলাকার পরিচয়ে কাজ বাগিয়ে নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার শীর্ষ নেতার কেউ কেউ বছরের অধিকাংশ সময়ই বিদেশ থাকেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০১৭ সালে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন করার তাগাদা দেন। সে অনুযায়ী যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগের সম্মেলন করা হয়। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে তাও কেউ জানেন না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ওমরা পালন করতে মক্কায় অবস্থান করছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ সপরিবারের ভারতে রয়েছেন। সে কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘আপাতত সম্মেলন করার কোনো উদ্যোগ নেই। তবে আমাদের সম্মেলনের তারিখ নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনি যখন চাইবেন, আমরা তখনই সম্মেলন করতে প্রস্তুত।’ জেলা-মহানগরের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ, সম্মেলন কবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলা ও মহানগর কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। অনেক জেলাতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে।’

বেহাল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ : স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালের ৩১ মে। এ সম্মেলনে উত্তরের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোবাশ্বের চৌধুরী। আর ফরিদুর রহমান খান ইরান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারা দুজনই এখন আবার সিটি করপোরেশন উত্তরের কাউন্সিলর। এখন তারা নিজ এলাকা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন দেবাশিস বিশ্বাস। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুর রহমান টিটু। এই দীর্ঘ সময়ে মহানগরের দুই অংশ তারা কোনো থানা কমিটিও দিতে পারেনি। মহানগরের নেতারা বলছেন, বারবার কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেও তারা ফল পাচ্ছেন না।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বেশ কিছু থানা কমিটি এখনো চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। আবার অনেক থানা কমিটির মেয়াদ ১০ বছরের বেশি। এমনকি মহানগরের দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান নেতৃত্ব। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের অন্তর্গত থানা রয়েছে ২৩টি। ইতোমধ্যে নতুন করে আরও তিনটি থানা গঠন করা হয়েছে। এগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো কমিটি নেই। স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের মহানগরের সম্মেলন হওয়ার পর বাদ পড়া নেতারা এবং তাদের অনুসারীরা সংগঠনের কোনো ফোরামে জায়গা পাচ্ছেন না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান নেতারা ছাত্রলীগ থেকেই এসেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় এখন তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে তা কেউ বলতে পারে না।