সুপার সেভেনেই ২১ মাস স্বেচ্ছাসেবক দলে

 ৩০ মে ২০১৮ বুধবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর ৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। ওই আংশিক কমিটি দিয়েই ২১ মাস ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বেচ্ছাসেবক দল। এর মধ্যে বর্তমান কমিটির সফলতা শুধু ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি দেওয়া। এর বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার হাজিরা ও জেলে যাওয়াকে ঘিরে কিছু শোডাউনও ছিল দৃশ্যমান। শতাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বর্তমানে কারাগারে। কিছু দিন আগে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল। বাকি পাঁচজন বাইরে থাকলেও তাদের কোনো কর্মকাণ্ডও চোখে পড়ছে না। অবশ্য এ জন্য তারা সাংগঠনিক পদ্ধতিকে দায়ী করছেন। সাত সদস্যের আংশিক কমিটিতে শফিউল বারী বাবু ও আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন ইয়াসিন আলী, এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও সাদরাজ্জামানকে মনোনীত যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার সময় বিএনপির হাইকমান্ড থেকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, এক মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে উপেক্ষিত বিএনপির এই দিকনির্দেশনা। জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় তড়িঘড়ি করে জেলা কমিটি করার চিন্তাভাবনা করছে স্বেচ্ছাসেবক দল। নির্দেশনা ছিল ৩০ মে অর্থাৎ আজকের মধ্যেই সব জেলা কমিটি জমা দেওয়া। কিন্তু সংগঠনটি সবেমাত্র কমিটিতে হাত দিয়েছে। এ কাজ করা খুবই কঠিন বলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন। তারপরও সাংগঠনিক ৭৭টির মধ্যে অন্তত অর্ধেক কমিটি শিগগিরই দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য নেতারা জানান, স্বাক্ষর করার ক্ষমতা না থাকায় তাদের তেমন কোনো কাজ নেই। বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো বুর্জোয়া দল ও অঙ্গসংগঠনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকই সব। বিএনপির অঙ্গ সংগঠনও এর বাইরে নয়। কারণ, এর আগে ৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায় দু-একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে বলেন, যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়েই কমিটি দেওয়া জরুরি। এ জন্য বারবার তাগাদাও দেওয়া হয় শীর্ষ নেতৃত্বকে। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেননি। এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল জানান, বর্তমান সরকারের দুঃশাসনে একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতি আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোথাও কর্মিসভা পর্যন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে। কিছু দিন আগে আমিও জেলে ছিলাম। এখন আবার সভাপতি জেলে। তারপরও বিএনপির হাইকমান্ডের দিকনির্দেশনায় আমরা জেলা কমিটি নিয়ে কাজ করছি। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাদেরই জেলা নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। রাজধানীর নয়াপল্টনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, গ্রেফতার আতঙ্কে নেতা-কর্মীরাও কার্যালয়মুখী না। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদেরও দেখা মেলে না কার্যালয়ে। সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলার খড়গ ঝুলছে। সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও শতাধিক মামলা। অন্য নেতার বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। নিয়মিত কার্যালয়ও খোলা থাকে না। মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অবশ্য মাঝেমধ্যে কার্যালয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার বলেন, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার খড়গ থাকার পরও বিএনপির সব কর্মসূচিতেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সরব উপস্থিতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও নেতা-কর্মীদের যাতায়াত রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশি গ্রেফতারের শঙ্কায় কেউ কেউ কেন্দ্রীয় কার্যালয় এড়িয়ে চলছেন। গ্রেফতার এড়িয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাও দলের একটি কৌশলের অংশ।