১৫ বছর ধরে থানা-ওয়ার্ড কমিটি ছাড়াই চলছে বিএনপি

 ৩ জুন ২০১৮ রবিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ঢাকা মহানগরে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ১৫ বছর ধরে এ পর্যায়ের কমিটি ছাড়াই চলেছে বিএনপি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার থানা-ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে তা আংশিক নয়, এবার পূর্ণাঙ্গ দেওয়ারই চিন্তাভাবনা চলছে। দুই শাখার শীর্ষ নেতারা থানা-ওয়ার্ড কমিটির খসড়া তালিকা লন্ডনে অবস্থান নেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন। তিনি শীর্ষ পাঁচ পদ (সুপার ফাইভ) নিয়ে যাচাই-বাছাই করছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথাও বলছেন। সেখান থেকে কমিটি অনুমোদন করে মেইলে পাঠিয়ে দেওয়ার পর ঢাকা মহানগর বিএনপির প্যাডে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর সংসদীয় আসনগুলোর ‘কর্তৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার রাখতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্ট আসনের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ঢাকা মহানগর বিএনপির থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাদের এমন মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সব এমপি প্রার্থীই নিজেদের মতো করে ওয়ার্ড-থানা কমিটি চায়। এ কারণে প্রতিটি থানায় একাধিক কমিটি জমা পড়েছে। নিজেদের লোকদের পদে বসাতে বা নিজের প্রভাব ধরে রাখতে মহানগরের নেতারা পদত্যাগ করে থানার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এমন সংখ্যা প্রায় ৪০ জন বলে জানা গেছে। গত বছরের ১৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর শাখার ৬৬ সদস্য ও দক্ষিণ শাখার ৭০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার সময় এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে থানা ও ওয়ার্ড কমিটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে দিতে বলা হয়। কিন্তু এক বছরের বেশি সময়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি দায়িত্বশীল নেতারা। অবশ্য এ জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতি, দলের চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরা, কারাগারে যাওয়াসহ বিএনপির নানা কর্মসূচি পালনের বিষয়টিও তুলে ধরেন নেতারা। জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে আন্দোলনকে সামনে রেখে দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে চায় দলটি। এর কারণ হিসেবে বিএনপি নেতারা বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থতার মূল দায়ভার ছিল ঢাকা মহানগরীর। খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও ঢাকা মহানগরের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। দলের সিনিয়র নেতারাও মহানগরের দিকে অভিযোগের তীর তুলে দিয়েছেন। সূত্রমতে, হঠাৎই লন্ডন থেকে বিশেষ নির্দেশনা আসার পর এখন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় ৩০ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ৫ জুন পর্যন্ত সময় চান। তাই আশা করা হচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যে ওয়ার্ড-থানা কমিটি হবে। আগামী সপ্তাহে মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে ৭১ সদস্য, থানা পর্যায়ে ১২১ সদস্য ও মহানগরে ১৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় ৫৬টি ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৩০০ নেতার পদ সৃষ্টি হবে বলে জানা গেছে। একইভাবে দক্ষিণ শাখাও প্রায় সমান সংখ্যক নেতা তৈরি করা হবে। জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এতদিন কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা এবার দ্রুততার সঙ্গে মহানগর বিএনপির সব কমিটিই দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে কোনো দিন এসব কমিটি হতে পারে।’

মালয়েশিয়ায় অবস্থান নেওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি এম এ কাইয়ুম বলেন, ‘বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশেই আমরা শিগগিরই ওয়ার্ড-থানা কমিটি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এ ছাড়া মহানগর উত্তর শাখার কমিটিও ঈদের আগেই পূর্ণাঙ্গ করা হবে বলে আশা করছি। কাউকে অখুশি নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সরকারের দুঃশাসনের প্রতিকূল পথ মোকাবিলা করতে চাই।’ সূত্রমতে, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে কমিটির তালিকা তৈরি করতে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ঢাকার কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, লালবাগ, মিরপুর, রূপনগর, পল্লবী, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ, উত্তরা, খিলক্ষেত থানা-ওয়ার্ড কমিটি নামের তালিকা তৈরিতে নানা সুবিধার বিনিময়ে অযোগ্যদের তালিকায় নাম দেওয়ার অভিযোগ উঠে দায়িত্বশীল একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। মহানগরের শীর্ষ পদে থাকা নেতারা অবশ্য তা নাকচ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘শতভাগ সততার সঙ্গে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আন্দোলন সংগ্রামে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং যারা যোগ্য তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, ‘এখানে ব্যক্তি পছন্দের কোনো সুযোগ নেই। দল যাকে যোগ্য মনে করেছে, যারা দলের জন্য নিবেদিত তারাই কমিটির শীর্ষে থাকবেন। এটাই দলীয় সিদ্ধান্ত।’