পদ্মার ছেঁড়াদ্বীপের ‘নৌকায়’ বর্ষবরণের আয়োজন

 ১৩ এপ্রিল ২০১৭, বৃহস্পতিবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

টুটুল রবিউলঃ দুই পাশে পানি মাঝখানে ছোট্ট একখন্ড চর। স্থানীয়রা  ক্ষুদ্র চরটির নাম দিয়েছেন ‘ছেঁড়াদ্বীপ’। সেই দ্বীপে খুঁটি পুঁতে ঠিক নৌকার আদলে টাঙানো হয়েছে কালো কাপড়। দেখে মনে হচ্ছে, নদীর কিনারায় বিশালাকার একটি নৌকা।নৌকায় পৌঁছাতে পার হতে হবে বাঁশের ব্রিজ। এ নৌকার উপরেই চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। সেখানেই চলবে বাংলা নববর্ষের সাত দিনের অনুষ্ঠানমালা। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে এমনই ভিন্ন আয়োজন করেছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মানুষ। উপজেলা সদরে গোদাগাড়ী মডেল থানার সামনেই পদ্মা নদীর পাড়ে ভিন্নধর্মী বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বৈশাখী মেলার আয়োজন করতে ছেঁড়াদ্বীপটি সাজানো হচ্ছে বর্ণিল সাজে। তৈরি করা হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মঞ্চ। লাগানো হয়েছে রঙিন বাতি। সন্ধ্যার পর এ এলাকাটি দেখার জন্য ভিড় করছেন মানুষ। আলোকিত করা হয়েছে পদ্মার চর ছেঁড়াদ্বীপকে। সেখানে এক মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

 আয়োজক কমিটির সভাপতি রাজশাহী জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ রবিউল আলম। তিনি জানালেন, সর্বশেষ ২০০০ সালে গোদাগাড়ীতে বৈশাখী উৎসব হয়েছিল। তাই অনেক দিন ধরেই তারা ভাবছিলেন এমন আয়োজন করার। এবার অনেক দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক কমিটিতে রয়েছেন বিভিন্ন স্তরের ১০১ জন ব্যক্তি। সবার আর্থিক সহযোগিতা ও গোদাগাড়ী ও তানোরের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক এমপির সার্বিক সহযোগিতায় এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আকবর আলী বলেন, সপ্তাহব্যাপি অনুষ্ঠিত হবে বৈশাখী মেলা। ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলার প্রবেশ পথ খোলা থাকবে। বৈশাখী মেলায় খাবার ও মনোহারী সামগ্রীর দোকান ছাড়াও ছোটবড় সবার জন্য মিনি সার্কাস, মিউজিক শো, নাগর দোলা, ট্রেন, মোটরসাইকেল খেলা, র‌্যাফেল ড্রর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলায় নির্মিত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া পদ্মায় ভ্রমণের জন্য বিভিন্ন ধরনের নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা উদ্বোধনের দিন নৌকাবাইচ ও হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হবে।  প্রথমবারের মত পদ্মা নদীর দ্বীপে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী। আর প্রতিদিন অনুষ্ঠানের অতিথিদের আশ্রয় ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে ছেঁড়াদ্বীপের ঐ নৌকার বিভিন্ন স্টলে।

মেলা প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, বৈশাখের উৎসব পালন হবে সুশৃঙ্খল ও আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে। আর এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আর স্থানীয়দের উদ্যোগে পদ্মাপাড়ের ছেঁড়াদ্বীপে যে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, সেখানে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থানার সামনেই এ আয়োজন হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না।