উড়তে চান পরী

 ১০ জানুয়ারি২০১৮ বুধবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

পরীমণি। পরীর সঙ্গে মণি যোগ হয়ে নামটিকে অনেক আদুরে করে তুলেছে। নামের সঙ্গে বাস্তবেও যেন অনেকটা আদরের দুলালী তিনি। কিন্তু নামের পাশাপাশি সমান্তরাল তালে কিছু সমালোচনার তীরও বরাবরই ছুটে চলে। কখনো তিনি তীরবিদ্ধ হন কখনো বা ফিরিয়ে দেন। ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে রুপালি জগতে নাম লেখান এই লাস্যময়ী। তবে নাম লেখানোর আগেই বেশ কয়েকবার আলোচনায় এসে জানান দিয়েছেন ক্যারিয়ার দৌড় কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে। সবকিছুর হিসাব টানলে পৌঁছানোর এ বিষয়টি নেতিবাচক নয়, সেটা এখন ইতিবাচক পর্যায়েই রয়েছে। ক্যারিয়ারের এই স্বল্প সময়ে প্রায়ই নানা আলোচনা ও সমালোচনার তীরে ব্যথিত হয়েছেন তিনি। তারপরও নিজের ডানা ঝাপটিয়ে সব আলোচনা সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে বরাবরই উড়তে চেয়েছেন পরী। ইতিমধ্যে বাপ্পি, সাইমন, শাহরিয়াজ, জায়েদ খান থেকে শুরু করে শাকিব খানের বিপরীতেও সমানতালে অভিনয় করে চলেছেন তিনি। বেশ কিছু ছবিতে পরীর ঝলকও দেখা গেছে। এগুলোর মধ্যে ‘আরও ভালোবাসব তোমায়’, ‘মহুয়া সুন্দরী’ ও ‘অন্তর জ্বালা’ অন্যতম। তবে মালেক আফসারীর অন্তর জ্বালা ছবিতে তার চরিত্র, রূপায়ণ ও অভিনয় দক্ষতা সত্যিই নজর কেড়েছে দর্শকদের। অন্যদিকে, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে দারুণ আশাবাদী পরীমণি নিজেও। তিনি বরাবরই বলে এসেছিলেন আগামীর ছবিগুলোতে তাকে আরও পরিপক্ব ও ভিন্ন আমেজে দেখা যাবে। কথার প্রমাণও মিলেছে স্বপ্নজালের ট্রেলারে। একেবারেই ভিন্ন আর নতুন পরীকে দেখা গেল এতে। মনপুরার প্রায় ৮ বছর পর নতুন ছবি নিয়ে হাজির হচ্ছেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম। গত ২ বছর ধরে স্বপ্নের জাল বুনেছেন তিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসে বড় পর্দায় উঠতে পারে এই ছবিটি। অর্থাৎ অন্তর জ্বালা দিয়ে বছর শেষ এবং স্বপ্নজাল দিয়ে নতুন বছর শুরু হবে পরীর।

তাইতো স্বপ্নজাল নিয়ে পরীমণির প্রত্যাশার পারদ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে পরীমণি বলেন, এই ছবিতে অভিনয়ের পর অনেকগুলো সাইন করা ছবি, ছয় দিন শুটিং করা ছবিও ছেড়ে দিয়েছি। ‘স্বপ্নজাল’র পর থেকে হতাশায় ভুগছিলাম, মনে হয়েছিল আমি বোধ হয় অভিনয় ভুলে গেছি। কেমন যেন খাপ খাইয়ে নিতে পারছিলাম না। সেটা থেকে বেরোনো খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এরপর করলাম ‘অন্তর জ্বালা’। যদি ‘স্বপ্নজাল’ না করতাম তাহলে হয়তো ‘অন্তর জ্বালা’ ফিরিয়ে দিতাম। ‘স্বপ্নজাল’র আগে এই আত্মবিশ্বাস আমার ছিল না। পরীমণি আরও বলেন, ইন্ডাস্ট্রির একটা অভিযোগ ছিল, কেন আমি ফোন বন্ধ করে রাখি? অনেক সিনিয়র পরিচালকদের ছবিও না করে দিয়েছি।

এজন্য আমাকে ‘বেয়াদব’ শব্দও শুনতে হয়েছিল। আমি আসলে কোনো কিছুর উত্তর দেইনি। কোনো তর্ক-বিতর্কে জড়াতে চাইনি। ফোন অফ করে ঘরের মধ্যেই ছিলাম। এমনকি এটাও রটেছে, আমি নাকি সিনেমা করব না। সিনেমা থেকে নাই হয়ে গেছি— এরকম নানা বিষয়। আমি আসলে কাজ করতে চাই, কিন্তু নায়িকা হয়ে নয়, অভিনেত্রী হয়ে। যেখানে একটা সুন্দর চরিত্র থাকবে। যে চরিত্র আজীবন দর্শকহৃদয়ে গেঁথে থাকবে। পরীমণি আরও বলেন, যদি একটা ভালো কাজ দিয়ে দশটা ছবির সমান ভালোবাসা ও সফলতা পাওয়া যায় তাহলে অধিক ছবি করে লাভ কী? বছরে দুই তিনটি ছবি করলেই যথেষ্ট। সত্যি কথা বলতে কী, সময় এসেছে দর্শকদের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার। তাই কিছুটা সময় নিয়ে বেছে বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকিটা না হয় দর্শকরাই বিচার করবেন। আর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে পরীমণি জানান, যা চেয়েছেন তার চেয়ে বেশি ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন দর্শকদের। আপাতত কোনো অপ্রাপ্তি বা অপূর্ণতা নেই তার মাঝে। এগিয়ে যেতে চান ক্যারিয়ারে। উড়তে চান ডানা মেলে। এখন দেখার পালা—পরী কতদূর মেলতে পারেন তার ডানা?