ছাত্রসমাজের অহংকার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

 ৪ জানুয়ারি২০১৮ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আজ ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭০তম জন্মদিন। ছাত্রলীগের, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী, রাজপথে সাধারণ মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের সাফল্যেঘেরা ছাত্ররাজনীতির অনন্য সংগঠন, শুদ্ধ রাজনীতির পাঠশালা— বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নিয়ে কিছু লিখছি। বাঙালি তথা বাঙ্গাল মূলকের পরাধীনতার ইতিহাস বহু পুরনো। ২০০৬ সালে উয়ারি-বটেশ্বরে প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে জানা যায়, এ অঞ্চলে প্রায় চার হাজার বছর আগে দ্রাবিড় ও তিব্বতীয়-বর্মি বসতি গড়ে উঠেছিল। সে সময় বিদেশিরাই এ অঞ্চল শাসন করত। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা (৬০৬-৬৩৭), পাল শাসনামলেও বাংলা ছিল স্বাধীন। কিন্তু পরে বিভিন্ন সময় আবারও স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় এ বাংলায়। সে সময় বহিরাগত শক্তি আফগান, মোগল ও ইংরেজরা আমাদের পরাভূত করে রাখে। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়েও আমরা পরাধীন থেকে যাই। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর খড়্গ নেমে আসে আমাদের ওপর। আমাদের যেন কিছুতেই মুক্তি নেই! তারা আমাদের শোষণ ও বঞ্চিত করতে থাকে, প্রভু সেজে বসে। আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করি চিরমুক্তির। আর তখনই অমোঘ মৃত্যুকে তুচ্ছ করে বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শিকল ভেঙে একটি জাতির মুক্তির সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে এলেন বাঙালির রাখাল রাজা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অবশেষে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখো শহীদের রক্ত আর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের মুক্তি মেলে। আমরা পাই মুক্তি, স্বাধীন বাংলাদেশ। এজন্যই বাঙালির মুক্তির এই মহান নেতাকে বলা হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধু মুক্তির যে মশাল জ্বেলেছিলেন, সেই মুক্তির মিছিলের অগ্রগামী মশালবাহী থেকেই ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ সেই স্বাধীনতা আন্দোলনের মশালবাহী ছাত্রলীগের ৭০তম জন্মদিন; ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্র-আন্দোলনের ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৮৮৫ সালে যখন কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় তারও অনেক বছর আগে ১৮৩০ সালের এক রাতে কয়েকজন তরুণ মিলে কলকাতা শহরে নবনির্মিত অক্টরলনি মনুমেন্ট চূড়া থেকে ইংরেজদের পতাকা নামিয়ে সেখানে উড়িয়ে দেয় ফরাসি বিপ্লবের সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার পতাকা। এটা ছিল বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার ছাত্র-আন্দোলনের প্রথম ঘটনা। এরপর ছাত্র-আন্দোলনের পেরিয়ে যায় অনেক পথ। হয়ে যায় অনেক ইতিহাস। প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের মধ্য আগস্টে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান। সে সময় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের আমাদের এই ভূখণ্ডটিকে করা হলো দেড় হাজার মাইল দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের অংশ। যাকে ‘অদ্ভুত সমন্বয়’ বললেও কম বলা হবে। দূরত্ব আর প্রভুত্বের মনোভাবের কারণে আমাদের প্রতি বৈষম্য ছিল অনিবার্য। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত অন্ধ পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে এ দেশের সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ছাত্র-আন্দোলন, সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই। ছাত্ররাই হবে এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের, আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্নিপুরুষ। তাই তো তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করার আগেই প্রতিষ্ঠা করেন ছাত্রলীগ, পাকি সরকারের সব অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেন ছাত্রসমাজকে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১১ মার্চ বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসমাজের ডাকা হরতালের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অবদান রাখতে শুরু করে ছাত্রলীগ। ১৯৫১ সালের আদমশুমারি চলাকালে সারা দেশে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বাংলা ভাষার পক্ষে মতামত দিতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন। এরপর ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনী প্রচারে ১৯৫৮ সালে আইয়ুবের মার্শাল লর প্রতিবাদে ছাত্রলীগই প্রথম রাজপথে সোচ্চার হয়। ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা এবং ছাত্রলীগের ১১ দফা অতঃপর ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ’৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী হতে ছাত্রলীগের অবদান ছিল মাইলফলক। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছাত্রলীগের সাড়ে ১৭ হাজার নেতা-কর্মী আত্মাহুতি দিয়েছেন। এই গৌরব পৃথিবীর আর কোনো ছাত্র সংগঠনের আছে কিনা আমার জানা নেই। ’৭৫-পরবর্তী পিতাহীন বাংলাদেশ বার বার গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই সময়গুলোতেও ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছেন। ১/১১-এর অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে শত শত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে ছাত্রলীগই প্রথম রাজপথে নেমে আসে। দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের নৈরাজ্য, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল এই ছাত্রলীগই। মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছাত্রলীগ। যেখানে মানবিক বিপর্যয় সেখানেই ছাত্রলীগ কাজ করে যায়। এ বছর লাখ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন নিয়ে এ দেশে পালিয়ে এসেছেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে শুরু থেকেই ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।  ছাত্রলীগ এ দেশে সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ের একটি প্লাটফরম। যে কোনো দাবি আদায়ে ছাত্রলীগ ছাত্রসমাজের পাশে থেকেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজ নিয়ে উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সারা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে ছাত্রলীগ। ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের অধিক জনসংখ্যার ঘনবসতির এই দেশকে গড়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তার সুচারু নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। দেশজুড়ে চলছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ আজ অনন্য অহংকারের নাম, গর্বের নাম। আজ আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার হয়ে দেশকে নিয়ে যাব অনন্য উচ্চতায়। শেখ হাসিনার ঘোষিত ভিশন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাব, দেশের উন্নয়নে অবদান রাখব। তাহলেই আমরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক। আজকের এই দিনে ছাত্রলীগের ভাইবোনদের প্রতি আহ্বান থাকবে—

‘এসো কলম ধরি

জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ি’

শুভ জন্মদিন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

জয় বাংলা

জয় বঙ্গবন্ধু

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

Related News

বিবিসিকে ‘ডন’ প্রধানের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার, পাকিস্তানে তোলপাড়

 ২০ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার   ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঅনলাইন ডেস্কপাকিস্তানে উত্তাপময় জাতীয় নির্বাচন শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে বি..

Detail

বাতিল হচ্ছে না টস প্রথা

 ৩১ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঅনলাইন ডেস্কটেস্ট ক্রিকেট থেকে বাতিল হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী টস প্রথা। আন্তর্জাতিক ক্..

Detail

কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে ভাগাড়ের পচা মাংস

 ১০ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঅনলাইন ডেস্কঃভাগাড়ের মৃত পশুর মাংসের হদিশ মিলল এবার কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায়। ঐতিহ্যব..

Detail

ঠাকুরগাঁয়ে আজাদ ক্লাব এর সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আনন্দ শোভাযাত্রা

 ৫ মে ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও শহরের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন সরকারপাড়া আজাদ ক্লাব এর সু..

Detail

মঙ্গল শোভাযাত্রা হারাম

 ১৪ এপ্রিল ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঅনলাইন ডেস্কঃনববর্ষের ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘হারাম’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন হ..

Detail

গাইবান্ধায় ঘাঘট নদীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী বারুনীর মেলা

 ১৫ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনগাইবান্ধা থেকে শেখ হুমায়ুন হক্কানী : গাইবান্ধা শহর সংলগ্ন নতুন ব্রিজের পাশে ঘাঘ..

Detail

গণসংবর্ধনায় গান গেয়ে মঞ্চ মাতালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

 ১ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঅনলাইন ডেস্কঃনিজ কণ্ঠে গান গেয়ে মঞ্চ মাতালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী এমপি..

Detail

যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

 ২৫ জানুয়ারি২০১৮ বৃহস্পতিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনঅনলাইন ডেস্কঃযুক্তরাজ্যের সারেতে ঐতিহ্যবাহী একটি পাঁচতারা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্ত..

Detail

নানা আয়োজনে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব পালিত

 ২০ জানুয়ারি২০১৮ শনিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনহাসিবুর কুষ্টিয়া থেকেঃ কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ..

Detail

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া আলতাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উৎসব উদযাপন

 ১৬ জানুয়ারি২০১৮ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনবাধন কর্মকার-বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালোড়া আলতাফ আলী উচ..

Detail

মৌলভীবাজারে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শুরু

 ১৩ জানুয়ারি২০১৮ শনিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনএ.কে.অলক মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী ..

Detail

সিরাজগঞ্জে সরকারী হাটের জায়গায় বহুতল ভবণ নির্মাণের অভিযোগ

 ৩ জানুয়ারি২০১৮ বুধবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন সিরাজগঞ্জ থেকেঃসিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রান্ধুনী বাড়ী&nb..

Detail

বিজয় দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা

 ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুনএ.কে.অলক মৌলভীবাজার : বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্দ্যোগে মৌলভীবাজারে ঐতিহ..

Detail