টাইপসেটার থেকে বিশ্বসেরা মার্ক টোয়েন

 ৫ জানুয়ারি২০১৮ শুক্রবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

১৮৫৭ সালে মার্ক টোয়েন মিসিসিপি নদীতে নৌকার মাঝির কাজ শুরু করেন। পরের বছর পেনিনসিলভিয়ার একটি জাহাজে চাকরি পান। আমেরিকার গৃহযুদ্ধচলাকালীন তিনি মাঝির কাজ করেন। পরবর্তীতে টাইপসেটার থেকে হয়ে ওঠেন বিখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন।

 

তার নাম স্যামুয়েল ল্যাঙ্গহর্ন ক্লিমেন্স। অবশ্য এ নামে তাকে অনেকেই চেনেন না। এই প্রখ্যাত লেখকের ছদ্মনাম মার্ক টোয়েন। মার্ক টোয়েনের রম্য লেখা কালজয়ী। এখনো তার সাহিত্যকর্ম পাঠক, সাহিত্যবোদ্ধাদের বিস্ময়ে ডুবিয়ে রেখেছে। জন্ম ১৮৩৫ সালে। নভেম্বরের ৩০ তারিখে জন্ম নেওয়া এই সাহিত্যিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের ভিতর দিয়ে গিয়েছেন। ছেলেবেলা মিসিসিপি নদীর তীরেই কাটে এই বিখ্যাত সাহিত্যিকের। তার ব্যস্ত জীবনটি অনেকটা রোমাঞ্চকরভাবে কাটলেও পিতা মারা যাওয়ার পর দারিদ্র্য আর দৈন্যে কেটেছে। মাত্র ১১ বছর বয়সে আইন নিয়ে পড়াশোনা করা ছেলেটি দরিদ্রের যাঁতাকলে পড়ে বাস্তবতার কঠিন সময়ে পা রাখেন। পরিবারের অর্থ উপার্জনে সাহায্য করার জন্য কিশোর টোয়েন স্টোর ক্লার্ক ও ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক সময় আর্থিক দৈন্যে যেমন ডুবেছেন তেমনি দেখেছেন খ্যাতি আর অর্থের প্রাচুর্য। তার সময়ে তিনিই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে ধনী লেখক। তাকে আমেরিকার সেরা সাহিত্যিক বলে মানা হয়। তিনি পাঠকদের তার লেখায় শুধু মুগ্ধই করেননি পাঠকদের অন্তরে প্রবেশ করেন আমেরিকার দাসপ্রথার অন্ধকার ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে। এ ছাড়াও রম্য লেখক ও বক্তা হিসেবেও ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। উপস্থিত শ্রোতাদের হাস্যরসে যেভাবে মাতিয়ে রাখতেন যা আজকের সময়ের স্টান্ডআপ পারফর্ম করার সমান। শ্রোতারাও এতটাই মনমুগ্ধ হতেন যে সময়ের হিসাব রাখতেন না। তার রসবোধ ছিল সবার কাছেই ঈর্ষণীয়। লেখক ও বক্তা হিসেবে মার্ক টোয়েন সেই ১৯ শতকে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তার সময়ে গোটা মার্কিন সাম্রাজ্যে এত বড় তারকা আর ছিল না। মার্কিন গ্রন্থকার উইলিয়াম ফকনার বিখ্যাত মার্ক টোয়েন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘টোয়েন ছিলেন প্রথম এবং প্রকৃত আমেরিকান লেখক। তার পরে আমরা সবাই তার উত্তরাধিকারী। মার্ক টোয়েনের সাহিত্যকর্মের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এসবের বেশিরভাগই পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে আলাদা করে বলতে হয়, অ্যাডভেঞ্চার্স অব টম সয়্যার আর অ্যাডভেঞ্চার্স অব হাকলবেরি ফিন-এর কথা। শত বর্ষ পেরিয়েও, এখনো পাঠক তার রোমাঞ্চে বুঁদ হয়ে থাকেন। বিশ্বসাহিত্যে এই উপন্যাস দুটিকে ক্লাসিকের মর্যাদায় রাখা হয়েছে।’ তার ভূয়সী প্রশংসায় বুঁদ হন আরেক বিখ্যাত সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়েও। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের প্রেম-ভালোবাসা ও দরিদ্রতাকে তুলে ধরেন।

 

মার্ক টোয়েনের বিখ্যাত হওয়ার গল্পটাও কোনো সাধারণ গল্প নয়। তার শৈশব ছিল একেবারেই সাদামাটা। মিসিসিপি নদীর কোল ঘেঁষা শহর হ্যানিবালে বড় হন এই সাহিত্যিক। তার বিখ্যাত দুটি উপন্যাস হাকলবেরি ফিন এবং টম সয়্যার রচনার মূল উপাদান খুঁজে নিয়েছিলেন— এ কথা অনেকেই বেমালুম ভুলে রয়েছেন। লেখালেখি শুরুর আগেই নানা পেশায় জড়িয়েছেন তিনি। এর আগে কাজ করেছিলেন মিসিসিপি নদীতে নৌকার মাঝিরও। শুরুর দিকে একজন প্রকাশকের দ্বারে গিয়েছিলেন কিছু উপার্জনের আশায়। তার অধীনে কিছুদিন শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করেন। সেই কাজে চমক দেখিয়ে মুদ্রণ সন্নিবেশক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। সে সময় তার বড় ভাইয়ের সংবাদপত্র তার নজর কাড়ে। সেখানে প্রবন্ধ লেখেন মার্ক টোয়েন। ১৮৬৫ সালে তার কৌতুকপূর্ণ গল্প প্রকাশ হলে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। তার রসিক স্কেচ ‘দ্য ড্যান্ডি ফ্রাইমিং অব স্কিটার’ বোস্টনের একটি পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর তিনি রম্য লেখক হিসেবে সবার নজরে আসেন। তবে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে তাকে আরও অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তবে এ গল্পের কথা ভুলে গেলে চলবে না।

 

ক্যালিফোর্নিয়াতে কিছুদিন খনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় মজার এই গল্পটি তিনি শুনেছিলেন। ধীরে ধীরে এই গল্পই তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। সে গল্প বলার আগে  জেনে নিন, মার্ক টোয়েনের খ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে অর্থের স্রোত এসে যোগ দেয়। বক্তৃতা দিয়ে খ্যাতি পান তিনি। লেখক খ্যাতির সঙ্গে বক্তা হিসেবে বাড়তি জনপ্রিয়তা যোগ হলে মার্ক টোয়েন রাতারাতি ধনী হয়ে ওঠেন। অর্থ প্রাচুর্যে জীবন কাটে তার। অবশ্য সে জীবন বেশিদিন টেকেনি। ব্যবসাতে সব টাকা ঢালেন তিনি। কপাল খারাপ ছিল মার্ক টোয়েনের। ব্যবসা ভাগ্য তার পক্ষে রইল না। সব টাকা স্রেফ জলে গেল।  প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বলতে গেলে যা ছিল সবই গেল। পকেট পুরো খালি হয়ে গেল তার। টাকার হাওয়া ফুরোতেই নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেউলিয়া ঘোষণা করেন। অবশ্য তার পাশে এসে দাঁড়ান হেনরি হাটলসন রজার্স। টাকা দিয়ে তাকে সাহায্য করেন তিনি। আর্থিক দুরবস্থা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে শুরু করেন মার্ক টোয়েন। দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলেও সেটা যথেষ্ট ছিল না। বহু দেনায় ডুবে ছিলেন মার্ক টোয়েন। এই দেনা ফিরে পাওয়ার জন্য তার আইনি তাড়া ছিল না। তবু টোয়েন দেনা পরিশোধে মরিয়া থাকতেন।

উইলিয়াম ফকনার টোয়েনকে আমেরিকার সাহিত্যের জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

শৈশবেই তার বাঁচার আশা ছিল না

স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স (মার্ক টোয়েন) ১৮৩৫ সালের ৩০ নভেম্বর ফ্লোরিডার মিসৌরিতে জন্মগ্রহণ করেন। টোয়েন সাত ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন ষষ্ঠ। মাত্র ৭ বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবা জন মার্শাল সাধারণ দোকান ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৮৩৯ সালে ক্লিমেন্সের বাবা জন মার্শাল ব্যবসায় উন্নতির জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিসৌরি শহরের হ্যানিবলে পাড়ি জমান। জন মার্শাল ছিলেন সৎ ব্যবসায়ী। হ্যানিবলের নিয়ম মেনে ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি। টোয়েনের ১১ বছর বয়সে বাবা মার্শাল (৪৯) নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। টোয়েন পিতৃহারা হয়ে বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

 

নিজের মৃত্যুর দিনক্ষণ আগেই জানতেন

মার্ক টোয়েন কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন না। কিন্তু নিজের মৃত্যুর দিনক্ষণ তিনি আগেই জানতেন! নিজের মৃত্যুর দিনক্ষণ নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী পুরোপুরি মিলে গিয়েছিল। টোয়েন তার এক লেখায় লিখেছিলেন, ‘১৮৩৫ সালে তার জন্মের সময় আকাশে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল। ঠিক তেমনি আবারও ধূমকেতুর পুনরাবির্ভাবের সময়ই তার মৃত্যু হবে।’ এমন লেখা স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল সাধারণ পাঠক। অবাক করা এই সত্য ব্যাপারটি হলো ১৯১০ সালে মার্ক টোয়েনের জীবনাবসানের সঙ্গে সঙ্গে রাতের আকাশে ফের দেখা দেয় হ্যালিস কমেট। নিউইয়র্কে টোয়েনের পারিবারিক ‘উডলন সমাধি’তে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

মার্কের পড়াশোনাও ছিল সীমিত

১৮৪৮ সালে বাবার মৃত্যুর পরের বছর ক্লিমেন্স হ্যানিবলের পত্রিকায় কাজ শুরু করেন টোয়েন। পিতৃহারা হয়ে দরিদ্র আর পেটের দায়ে কাজে নেমেছিলেন মার্ক টোয়েন। এরপর ১৮৫১ সালে ওরিয়নের মালিকানাধীন একটি স্থানীয় পত্রিকায় টাইপসেটারে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকেই টোয়েন কয়েকটি রম্য লেখা লিখেন এবং স্থানীয় পত্রিকায় তা ছাপা হয়। ১৮৫৩ সালে টোয়েন হ্যানিবল ছেড়ে পরের কয়েক বছর নিউ ইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া, কেওকুক এবং লওয়ার মতো শহরে একজন মুদ্রাক্ষর বা অক্ষরজীবী হিসেবে কাটিয়েছিলেন। টোয়েন টাইপসেটার হওয়ার কারণে লিখতে লিখতে একসময় লেখক হয়ে ওঠেন। পড়াশোনা বা সার্টিফিকেটে টোয়েন ছিলেন সীমিত।

 

মিসিসিপি নদীতে জীবনের বড় দুঃখ পান

১৮৫৭ সালে টোয়েন মিসিসিপি নদীতে জাহাজের শিক্ষানবিস মাঝি হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরের বছর পেনিনসেলভিয়ার একটি জাহাজে চাকরি পান। সেখানে ছোট ভাই হেনরির দেখা পান। হেনরিও জাহাজের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। টোয়েন জুন মাসের শুরুতে কাজ শুরু করলেও মাত্র ১৩ জুন পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। পেনিনসিলভিয়ায় তখন হঠাৎ দুর্যোগ দেখা দেয়। মেমফিসের কাছাকাছি জাহাজ চলার সময় জাহাজের ব্রয়লার বিস্ফোরণে ছোট ভাই হেনরি মারা যান। এই ঘটনায় টোয়েন ভীষণ কষ্ট পান। ১৮৫৯ সালে টোয়েন জাহাজের নাবিকের লাইসেন্স পান ও ১৮৬১ সাল অর্থাৎ আমেরিকার গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সময় পর্যন্ত একটানা কাজ করেন।

 

মার্ক টোয়েন ছিলেন খারাপ ব্যবসায়ী

মার্ক টোয়েন একজন লেখক হিসেবে সফলতা অর্জন করলেও একজন বুদ্ধিমত্তাহীন ব্যবসায়ী হিসেবে তার দুর্নাম রয়েছে। ব্যবসায়ের জন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ঋণ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যবসায়ের ক্ষতি হওয়ার কারণে টোয়েন দেউলিয়া হয়ে যান। যার মূল কারণ ছিল বিনিয়োগের নির্বুদ্ধিতা। ১৮৯০ সালে দুই লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে অত্যাধুনিক টাইপ মেশিন ক্রয় করেছিলেন যখন আমেরিকার একটি পরিবারের বার্ষিক আয় মাত্র ১২০০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে প্রথম টেলিফোন আবিষ্কারের নায়ক আলেকজান্দ্রার গ্রাম বেলের নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগে টোয়েন রাজি ছিলেন না। বিনিয়োগের এই নির্বুদ্ধিতার কারণে টোয়েনের ব্যবসায় ক্ষতি হয়।

 

মার্ক ছিলেন একজন ভ্রমণ লেখক

টোয়েন একজন ভ্রমণ সাংবাদিকও ছিলেন। ১৮৬৫ সালে স্যাক্রামেন্টো ইউনিয়ন হাইওয়েতে ভ্রমণের রিপোর্ট করার জন্য টোয়েনকে নিয়োগ করা হয়। তার ভ্রমণ রিপোর্ট ‘স্যান্ডইউচ দ্বীপপুঞ্জ’ এবং হাইললুলু সে সময় পত্রিকাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করত। ১৮৬৬ সালে তিনি অ্যালতা ক্যালিফোর্নিয়ার হয়ে ভ্রমণ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন। এই পেশাটিকে টোয়েন ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। এখান থেকে তিনি পৃথিবীকে চেনেন এবং রিপোর্টগুলো চিঠি আকারে পাঠাতেন। তার লেখা কানেকটিকাট ইয়াঙ্কিও এবং অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম পাঠকদের মনে বেশ সারা জাগিয়েছিল। ১৮৮৫ সালে টোয়েন দেউলিয়া হওয়ার পর আবারও বিশ্বভ্রমণ শুরু করেছিলেন।

 

বিখ্যাত এই লেখকের শেষ লেখা

ইউরোপে ব্যবসায়িক ব্যর্থতা ও দেউলিয়া হওয়ার পর ক্লিমেন্স আবারও আমেরিকায় ফিরে আসেন। ১৯ শতকের সময়টিতে বিখ্যাত এই লেখকের লেখার প্রতি তিক্ততা চলে আসে। বিশেষ করে ১৯০৫ সালে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর লেখালেখি করতেন না টোয়েন। ১৯ শতকে মার্ক টোয়েন আমেরিকান শহরের সাধারণ মানুষের ছোট ছোট দুর্নীতি নিয়ে ‘দ্য ম্যান দ্যাট করাপ্টেড হেডেলবার্গ’ বই লিখেন। টোয়েন স্ত্রীর স্মরণে ১৯০৬ সালে লিখেছিলেন ‘ইভি’স ডায়েরি’। ১৯০৬ সালে আলবার্ট বি পাইনকে ক্লিমেন্স তার জীবনের ছড়ানো ছিটানো স্মৃতি নিয়ে আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশের নির্দেশ দেন। একই বছর পত্রিকায় তার আংশিক প্রকাশ হয়েছিল।

বক্তৃতা প্রদানেও সেরা

বিশ্বসেরা রম্য লেখক ও সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন। নামটি তার ছদ্ম নাম। এ নামেই তার বিশ্বজোড়া খ্যাতি। মূলত রম্য লেখা লিখেই ক্লিমেন্স দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। নির্বাচিত রম্য বক্তা হিসেবেও টোয়েনের নামডাক হয়েছিল। তিনি নানা জায়গায় গিয়ে একক রম্য বক্তৃতা প্রদান করতেন যা আজকের সময়ের স্ট্যান্ডআপ কমেডির সঙ্গে তুলনা করা যায়। মার্ক টোয়েন বিভিন্ন সংঘের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অথরস’ ক্লাব, বিফস্টিক ক্লাব, ভ্যাগাবন্ডস, হোয়াইট ফ্রায়ারস এবং হ্যার্টফোর্ডের সান্ধ্যকালীন বক্তা ছিলেন তিনি। ১৮৯০ সালে লন্ডনের স্যাভেজ ক্লাবে বক্তৃতা দিয়ে ক্লাবের সম্মানসূচক সদস্যপদ লাভ করেন। যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অব ওয়েলস অ্যাওয়ার্ড পান। ১৮৯৭ সালে ভিয়েনার কনকর্ডিয়া প্রেস ক্লাব ও ১৯০১ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য সংঘতেও বক্তৃতা করেন।

অনন্য বই

এক চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে ও এক কৃতদাসের গল্প লিখে বিশ্বসেরা সাহিত্যিকদের কাতারে আসেন স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স অর্থাৎ মার্ক টোয়েন। দুরন্ত আর ডানপিটে কিশোর হাকলবেরি ফিন। সঙ্গী তার জিম নামের এক ক্রীতদাস। রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে এগিয়ে চলল ওরা স্বাধীন জীবনের সন্ধানে। আমেরিকার দাসপ্রথার  অন্ধকার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল বইটির পাতায়। বইটিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে মার্কিন দরিদ্রতার গল্প। মার্ক টোয়েনকে মার্কিন সাহিত্যের জনক বলে আখ্যায়িত করা হয়। বিখ্যাত এই সাহিত্যিক সম্পর্কে লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলেন, সব আধুনিক মার্কিন সাহিত্য এসেছে মার্ক টোয়েনের জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম ‘হাকলবেরি ফিন’ থেকে। আর সাহিত্যিকদের মতে, ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’ মার্ক টোয়েনের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম।