কৌশলে কর বাড়ানো হয়েছে

  ৪  জুন ২০১৬, শনিবার 

প্রবাসী বাংলা রিপোর্ট : ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটকে অত্যন্ত জটিল বলে আখ্যায়িত করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। গতকাল দুপুরে এফবিসিসিআই ভবনের সম্মেলনে কক্ষে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই বিশাল বাজেটের অনেক বিষয় আমাদের বিশদভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। আগামী ৭ অথবা ৮ জুন এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এবারের বাজেট বিশাল। এ বিশাল বাজেটে করের আওতা না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মূলত কৌশলে কর বাড়ানো হয়েছে। সরকার বড় বাজেট দিয়ে মানুষের মুখে হাসি দেখতে চায় কিন্তু আমরা সেরকম কিছু দেখতে পাচ্ছি না। এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে বাজেটের জন্য ৭টি পয়েন্ট দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রতিফলন দেখতে পারিনি। অনেক অ্যাসোসিয়েশন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবির প্রতিফলন বাজেটে ঘটেনি। মাতলুব আহমাদ বলেন, বাজেট নিয়ে এফবিসিসিআই গত ৪ মাস ধরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে। বাজেটের আকার বড় হওয়া মানেই রাজস্বের আকার বড় হবে। রাজস্বের আকার বড় হওয়া মানেই ব্যবসায়ীদের আরও টাকা দিতে হবে। আমরা টাকা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে থাকতে চাই। হয়রানির কারণে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে মন্তব্য করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এবারের বাজেট বিশ্লেষণের জন্য আমাদের তিনটি টিম কাজ করছে। বাজেটে যে কটি পয়েন্ট আমরা চেয়েছিলাম, সেগুলোর প্রতিফলন আমরা এখনও খুঁজে পাইনি। বরং সরকার কিভাবে আরও ট্যাক্স আদায় করা যায় এবং ছোট  ছোট ব্যবসায়ীর ওপর ট্যাক্স আদায়ের নতুন ফর্মুলা দিয়েছে। সেই ফর্মুলা এখন আমাদের খুঁজে খুঁজে বের করতে হচ্ছে, ওনারা কিভাবে এগুলো অর্জন করতে চান। ফেডারেশন মনে করে কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দিলে, তা আদায় করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, এ বিশাল বাজেটকে পর্যালোচনার জন্য আমাদের আরও সময়ের প্রয়োজন আছে। কারণ কয়েকটি জায়গায় ভাল আছে, কয়েকটি জায়গায় খারাপ আছে। যেমন আমরা প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি জুয়েলারি সমিতি, হাইব্রিড গাড়ির আমদানিকারক, লোহা, ই-কমার্স, বেকারি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যাদের আছে তাদের অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। এটি বিশাল বাজেট, তাড়াহুড়া করে এর ওপর প্রতিক্রিয়া দেয়া সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীদের জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমরা বুঝতে পারছিÑ মানুষের মুখে যে হাসি দেখতে চাই, সে হাসিটা এখন দেখতে পারছি না। কি করলে সেই হাসিটা দেখতে পাওয়া যাবে, সেটিই এখন আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আগামীতে ব্যবসায়ীরা প্রাক-বাজেট আলোচনায় নাও বসতে পারে এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে মাতলুব আহমাদ বলেন, আমাদের ৪৮০টি অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। ৮০টি চেম্বার রয়েছে, জয়েন্ট চেম্বার রয়েছে। অনেক অ্যাসোসিয়েশন এ বাজেট গ্রহণ করতে পারছে না। তারা আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া পাঠাতে চাচ্ছেন। আমরা ব্যবসায়ীদের কথা সরকারের কাছে তুলে ধরব এবং আমরা ৪ মাস থেকে যে প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে দিয়েছিলাম, সেটা কতটুকু সরকার নিয়েছে, কতটুকু নেয়নি তাও তুলে ধরব। তাহলে আগামী বাজেটে আমরা বাজেট সভা করব কিনা, সেটা নিয়েও আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা বলে যাব, আর ওনারা শুনবেন, কিন্তু বাজেটে কোনো প্রতিফলন দেখব না তাহলে এত সময় নষ্ট করব না আমরা। এ সময়টা আমরা আমাদের ব্যবসার কাজে দিতে পারি। কালো টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ফেডারেশন সব সময় কালো টাকার বিরুদ্ধে। তবে টাকা যদি দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়, তাহলে টাকা দেশের ভেতর রাখার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, পরিচালক হাবিবুল্লা ডন, হারুনুর রশিদ, শামীম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।