বিলুপ্তির পথে দেশিয় প্রজাতির মাছ

  ১৭  জুলাই ২০১৬, রবিবার  সহ দেখতে ক্লিক করুন

এম লুৎফর রহমান নরসিংদী প্রতিনিধি ঃনরসিংদী সদরসহ ৬টি উপজেলার হাটবাজারগুলোতে দেশিয় প্রজাতির নানা ধরনের মাছ এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ জাতীয় মাছ অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। জেলার গ্রামাঞ্চলের নদী- নালা, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়, ডোবা ও বিল-ঝিল দীর্ঘ দিন যাবত খনন না করায় এবং নির্বিঘেœ ছোট-বড় মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ডিম ছাড়ার আগেই জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। ফলে মাছের বংশ বিস্তার হচ্ছে না। এক শ্রেণীর অসাধু জেলেরা মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছে। যার কারণে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশিয় প্রজাতির মাছ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, শিবপুর উপজেলার চিনাদি বিলের মাছের ক্ষেত্র এখন শূন্য প্রায় হয়ে গেছে। আগের মতো এখন আর বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুঁটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাদবা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলেসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশেষ করে নদীর মাছ হিসেবে পরিচিত পোয়া, ইলিশ, আইড়, রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। অত্র অঞ্চলের ইলিশ মাছ এখন সোনা হরিণ হয়ে গেছে। এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছের পোনা নিধন, শুষ্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবণতা এবং মাছের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়াসহ প্রভৃতি কারণে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসেবে পরিচিত মৎস্যসম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে। এ ছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়েগ না থাকায় দেশিয় প্রজাতির মৎস্যসম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলে ও এখন আর সেই অবস্থা নেই। জেলার হাটবাজারগুলোতে চাষকৃত কার্প জাতীয় রুই, কাতলা, পাঙ্গাশ, আফ্রিকান মাগুর, হাইব্রিড শিং, মাগুর এবং থাই পঁটি, কৈ, ও তেলাপিয়াসহ নানা ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে। চাষকৃত মাছের কাছে দেশি প্রজাতির মাছ টিকতে না পেরে হারিয়ি গেছে। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু মাছ বাজারে পাওয়া যায় তাও দাম চড়া। প্রতি কেজি টেংরা,পুঁটিসহ অন্যান্য মাছ ৪০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। জেলেরা জানান, দারিদ্র্যতার কারণে তারা মাছ শিকার করতে বাধ্য হচ্ছে। এই বিষয়ে মৎস্য অধিদফতর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অভিজ্ঞমহলের মতে, নদী-নালা, খাল-বিল পুণঃ খনন এবং সমন্বিত মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ, কৃষি জমিতে স্বল্পমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা হলে জাতীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিদেশি চাষকৃত মাছের কাছে দেশি প্রজাতির মাছ মার খেয়ে গেছে। এই অবস্থায় দেশি মাছ বিলুপ্তি হলে জেলার প্রায় পাঁচ সহশ্রাধিক জেলে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। কাজেই এ ব্যাপারে এখনইকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী।