বাণিজ্য–সুবিধা আরও বাড়াতে হবে

 ২৯ সেপ্টেম্বর  ২০১৬, বৃহস্পতিবার   সহ দেখতে ক্লিক করুন

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ৯ শতাংশ উন্নীত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। আরও বাড়াতে হবে বাণিজ্য-সুবিধা। পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য রেল, সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ সহজ করার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সস্তা শ্রম কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদন, অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে পারে ভারত।

গতকাল বুধবার ‘পারস্পরিক টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ইন্দো-বাংলাদেশ সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সেমিনারের আয়োজন করে ইংরেজি দৈনিক দ্য এশিয়ান এজ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমিং ইন্ডিয়ার (এনআইটিআই) সদস্য বিবেক দেবরায়।

অনুষ্ঠানে আতিউর রহমান তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, উন্নয়ন বিবেচনায় একুশ শতক হলো এশিয়ার। আর এশিয়ায় সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দুটি দেশ হলো বাংলাদেশ ও ভারত। ৮-৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে স্বপ্ন এ দুটি দেশ দেখছে, তাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে পণ্যের চলাচল সহজ করতে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, রেল ও সড়কপথের আরও উন্নয়ন দরকার। এ ছাড়া জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে। কৃষি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার উদাহরণ টেনে সাবেক গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রাণ গ্রুপের পণ্য রপ্তানি তিন গুণের বেশি বেড়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪ কোটি ৯১ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

আলোচনা: অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিবেক দেবরায় বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বে যদি আন্তসীমান্ত পুঁজি ও শ্রমিকের চলাচল না হয়; তবে বাণিজ্য বাড়বে না। আশার কথা হলো, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তা শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, সার্ক স্থায়ীভাবে আটকে গেছে। তাই সার্কের বাইরে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল বা বিবিআইএন উদ্যোগ হোক; অন্য কোনো উপায়েই হোক, পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম দুই দেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কয়েকটি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাধা হলো সংবেদনশীল পণ্যের বিশাল তালিকা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘২০০৫-০৬ অর্থবছরেই তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত বাজার-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেয় ভারত। কিন্তু শুল্ক বিভাগে নির্দেশনার জন্য ২০০৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে মোটরযান চলাচল চুক্তি হলেও কবে এটা বাস্তবায়িত হবে, জানি না। এ ছাড়া নানা ধরনের অশুল্ক বাধাও আছে।’

সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বহমান নদীগুলোর অববাহিকামূলক উন্নয়নদর্শন নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্পৃক্ততা আছে। তিনি বলেন, মোটরযান চলাচল চুক্তির আওতায় পরীক্ষা চালান ঢাকা থেকে দিল্লি গেছে। ১০ বছর আগের কথা চিন্তা করলে বোঝা যাবে, আন্তদেশীয় যোগাযোগে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শেকড় অনেক গভীরে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। সুশাসন না থাকলে বেশি দূর আগানো যায় না।