১০ কোটি টাকার কর্মসূচি অনুমোদনের অপেক্ষায়


 ১ নভেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার   সহ দেখতে ক্লিক করুন

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘জয়িতার খাদ্যজাত ব্যবসা শক্তিশালীকরণ’-এ বাজেট বাস্তবায়ন কমিটির প্রায় ১০ কোটি টাকার কর্মসূচি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কর্মসূচিটি অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে সারসংক্ষেপ পাঠিয়েছেন। সংশ্লিষ্টসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৩ বছরে মোট ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে তিন অর্থবছরে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এ কর্মসূচির মাধ্যমে জয়িতা বিপণন কেন্দ্রে বর্তমানে পরিচালিত খাদ্যজাত পণ্যের ব্যবসায় সম্পৃক্ত নারী উদ্যোক্তারা সমিতির মাধ্যমে সদস্যদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে খাদ্যপণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত মান নিশ্চিতকরণ ও খাদ্যজাত পণ্যের ব্যবসার অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি খাদ্যজাত পণ্যের ইতিবাচক ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ সুবিধাসংবলিত অবকাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী নারীদের ইনকিউবেটর অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে সমিতিকে সংগঠিত করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ছোট-ছোট ক্যাফে বা রেস্তোরাঁ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, এরই মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত জয়িতার খাদ্যজাত ব্যবসা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি নিয়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় নতুন কর্মসূচি যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটি বেশ কিছু শর্তও দিয়েছে।

সূত্র জানায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির জন্য তিন অর্থবছরের মধ্যে প্রথম বছরে ৩ কোটি ৫২ লাখ, দ্বিতীয় অর্থবছরে ৩ কোটি ৩৪ লাখ এবং তৃতীয় অর্থবছরের জন্য ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়। এর বিপরীতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি প্রথম বছর ১ কোটি ৭২ লাখ, দ্বিতীয় বছর ১ কোটি ৬০ লাখ এবং শেষ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ অর্থাৎ মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করে।

এদিকে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির শর্তাবলির মধ্যে আছেÑ ব্যয়ের তারতম্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বরাদ্দ যৌক্তিকীকরণ এবং একই ধরনের কাজের ব্যয়ের একক হারের মধ্যে সামঞ্জস্য করে দ্বৈততা পরিহার করা। কর্মসূচিতে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ না করে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার পদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। সহকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি বিধি অনুসারে অতিরিক্ত দায়িত্বভাতা পাবেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে মনিটরিং ও বাস্তবায়নোত্তর মূল্যায়নের জন্য মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে পরিমাপযোগ্য ইনডিকেটর নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ বিভাগে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। কর্মসূচির অর্থ ব্যয়/বিল পরিশোধে অনিয়ম হলে পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী হবে।