দশ টাকার চাল নিয়ে চালবাজী বাগেরহাটে ৫৩ ডিলারের সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও চেয়ারম্যানদের স্বজন

 ১২ নভেম্বর ২০১৬, শনিবার   সহ দেখতে ক্লিক করুন


শামীম আহসান মল্লিক, বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ

  বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে ১০ টাকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য নিযুক্ত ৫৩জন ডিলারের সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী। জনপ্রতিনিধিরা ডিলার হতে পারবেন না এমন নীতিমালা থাকায় বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান ডিলারশীপটিকে নিজের কবজায় রাখতে নিজ ছেলে,ভাতিজা,ভাইগ্না,ভায়রা ও অনুগত দলীয় নেতা-কর্মীর নামে ডিলারশীপ বাগিয়ে নিয়েছেন। আর এ অনৈতিক কাজটি করেছেন স্থানীয় সর্বোচ্চ জনপ্রতিনিধি থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পর্যন্ত। সরকারি-বেসরকারি চাকুরীজীবীরাও রয়েছেন ডিলারের তালিকায়। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যোগ্যতা যাচাই করে প্রকৃত খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিয়োগ না দিয়ে চেয়ারম্যানদের পছন্দমতে তাদেরই দেয়া তালিকা অনুযায়ী ডিলার নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীর পরিবর্তে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী হবার কারণে কেউ নীতিমালার তোয়াক্কা করছেননা। আর এসব ডিলারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও ভূক্তভোগীরা কথা বলতে সাহস পাচ্ছেননা।


   উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজার বিক্রয় কেন্দ্রের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে ওই   ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আ.রহিম বাচ্চুর ছেলে তানভীর আহম্মেদকে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে বসেই ১০ টাকার চাল বিক্রি করে থাকেন।একই ইউনিয়নের ডিলার কামরুল ইসলাম একটি কলেজের কর্মচারী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ যুগ্ম সম্পাদক, ডিলার ফেরদৌস হোসেন পিয়াস ছাত্রলীগ নেতা । পঞ্চকরণ ইউনিয়নে ডিলার নিযুক্ত করা হয়েছে চেয়ারম্যান আ.রাজ্জাক মজুমদারের ভাতিজা আক্তারুজ্জামান মজুমদারকে ও ভাইগ্না কামরুল ইসলামকে। খাউলিয়া ইউনিয়নে ডিলার নিযুক্ত করা হয়েছে চেয়ারম্যান আবুল খয়েরের ভাতিজা জাকির আল মামুন,ভায়রা জামাল ফকিরকে। দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নে ডিলার তাজুল ইসলাম এক জনপ্রতিনিধির চাচাতো ভাই। উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ডিলার রিয়াজুল ইসলাম প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ভাইগ্না এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী। একই ভাবে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং চেয়ারম্যানদের স্বজন।


  এসব ডিলারদের বিরুদ্ধে ওজনে কম দেয়াসহ নানা অভিযোগ থাকলেও কেউ টুশব্দটি করার সাহস পায়না। ওজনে কম দেয়ার অপরাধে চিংড়াখালীর আছাদুজ্জামান বক্রের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি দুদক-এর একটি ডিম মোরেলগঞ্জ ঘুরে যাওয়ার পর থেকে ওজনে কম দেয়ার ব্যাপারে ডিলাররা অনেকটা সতর্ক বলে জানান কার্ডধারীরা । সংশ্লিষ্ট ডিলারের নিজ নিজ স্পটে নির্ধারিত সাইনবোর্ড সম্মিলিত নির্ধারিত বিক্রয় কেন্দ্র  (দোকান) থাকা বাধ্যতামূলক এবং সপ্তাহের শুক্র.শনি ও মঙ্গলবার বিক্রয় কেন্দ্র খোলা রাখার নিয়ম কেউ মানছেনা। খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে এক দিনে সব চাল বিক্রি সম্ভব কিনা তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। সরজমিনে বারইখালী, নিশানবাড়িয়া ও খাউলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেলে কেইউ সরকারি নীতিমালা মানছেননা।          


    উপজেলার জিউধরা,সুন্দরবন,তেতুলবাড়িয়া,বারইখালীর স্পটগুলোতে ১০টাকার চাল বিক্রির জন্য দোকান থাকলেও সাইনবোর্ড নেই। গুলিশাখালী বাজারের ডিলারের সাইনবোর্ডতো দুরের কথা,কোন বিক্রয় কেন্দ্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ওই বাজারে।  খাউলিয়া ইউনিয়নের আমতলী বাজারে ১০টাকার চাল বিক্রির কোন বিক্রয় কেন্দ্র নেই।জানা গেলো ওই বাজারের আওয়ামীলীগ অফিসে বসে চাল বিক্রি করা হয়। পল্লীমঙ্গল বাজারে রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড থাকলেও ডিলারের কোন দোকান নেই। এছাড়াও বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে অনেকের বিক্রয় কেন্দ্র নেই আবার যাদের বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে তাদের কেন্দ্রে নির্ধারিত সাইনবোর্ড টানানো হয়নি। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী আফিসার মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,সবগুলো বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ##