‘গার্মেন্টে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টায় বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা’

   মার্চ ২০১৭,  শুক্রবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

গার্মেন্ট সেক্টরে অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপতৎপরতায় বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। এছাড়া শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিশেষ প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর গুলশানে আমেরিকান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল লেবার সলিডারিটি (সলিডারিটি সেন্টার)-এর মতবিনিময় সম্পর্কে বলা হয় এটি ‘গোপন মতবিনিময়’। এতে বলা হয়, গত ২০শে ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার গুলশান-১ এর বাড়ি নং-৯তে আমেরিকান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল লেবার সলিডারিটি (সলিডারিটি সেন্টার)-এর ঢাকা অফিসে সলিডারিটি সেন্টারের রিজিওনাল কান্ট্রি হেড আলনজো এবং ডেপুটি রিজিওনাল হেড জেনিফারের উপস্থিতিতে এক গোপন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সলিডারিটি সেন্টারের পরিচালক বাবুল আক্তার ও নাজমা আক্তার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আমিরুল হক আমিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ সোসাইটির জিএস কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ ও বিজিআইডব্লিউএফ-এর সেক্রেটারি রাজু আহম্মেদ রাজু উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার, বন্ধ অফিস খুলে দেয়া এবং রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও পাওনা পরিশোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সলিডারিটি সেন্টারের বাংলাদেশস্থ বিদেশি আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশস্থ ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল-এর শ্রমিক সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা করার দাবিসহ অন্যান্য সাত দফা দাবি আদায়ের জন্য পোশাক শিল্পে অরাজকতা সৃষ্টিতে তৎপর রয়েছে। এতে বলা হয়, সলিডারিটি সেন্টারের বাংলাদেশস্থ বিদেশি আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশস্থ ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা গার্মেন্টে অরাজকতা সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা গার্মেন্ট সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এদিকে বিশেষ প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সলিডারিটি সেন্টারের বাংলাদেশস্থ বিদেশি আঞ্চলিক নেতা ও বাংলাদেশস্থ ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তা এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার অপতৎপরতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সতর্ক ও তৎপর হতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।