পিআইডির অধীনে হবে মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার

   ৬ মে ২০১৬, শুক্রবার  

মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার হবে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি)। পিআইডি’র অধীনেই থাকবে এ সেন্টারটি। এ সংক্রান্ত জনবল, কার্যপরিধি ও সরঞ্জামাদির তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ প্রবাসী বাংলাকে বলেন, মনিটরিং সেন্টারের গঠন প্রকৃতি তৈরির জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ‘মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার’ স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মনিটরিং সেন্টার স্থাপন হতে আরও সময় লাগবে। কারণ সবেমাত্র সেন্টারের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া মনিটরিংয়ের কাজটি বেশ টেকনিক্যাল। এ ছাড়া রয়েছে অনলাইন মিডিয়া। সব বিষয় মনিটরিং করতে কিভাবে সেটআপ করা যায় এনিয়ে শিগগিরই তথ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ওই বৈঠকের পরই জনবল প্রস্তাব ও তাদের কার্য পরিধি ঠিক করা হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পিআইডি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াকে কিভাবে মনিটরিং করা হয় ওই সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছে। গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে কাগজপত্র যোগাড় করা হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব বিষয় মনিটরিং করা হচ্ছে। এর আগে গত বুধবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরপর্বে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণের জন্য মিডিয়া মনিটরিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারদলীয় এমপি পিনু খানের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, অনলাইনভিত্তিক পত্রিকাসমূহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারির জন্য অনলাইন গণমাধ্যম সহায়ক নীতিমালা শীর্ষক একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ওই নীতিমালার আওতায় অনলাইনভিত্তিক পত্রিকাসমূহকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এর একটি ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে। মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে। এই সব মিডিয়া বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবে মর্মে সরকার সব সময় আশা প্রকাশ করে থাকে। তবে অবাধ স্বাধীনতা ভোগের সুযোগে অনেক মিডিয়া/অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং কিছু ব্লগ ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে লেখালেখি করছে। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী এক অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকলেই স্বাধীনতা ভোগ করে দেশ গঠনে কাজ করছে। একই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক গণমাধ্যম বা ব্লগে কারও কারও লেখালেখিতে ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাস আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের লেখালেখি শুধু দায়িত্বহীন বা উস্কানিমূলক নয়, আইন বিরোধীও বটে। এই ধরনের লেখালেখিতে সাময়িক উত্তেজনা বা অশান্তি তৈরি হলেও সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আস্তিক-নাস্তিক বিভেদ সৃষ্টির মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হয় নাই।