এক হাত নেই, নিবন্ধন হয়নি মাহিনুরের সিম

  ১৬  মে ২০১৬, সোমবার 

.জন্মগতভাবেই একটি হাত না থাকায় নিজের সিম নিবন্ধন করাতে পারছেন না শারীরিক প্রতিবন্ধী মাহিনুর। একাধিক খুচরা বিক্রেতা বা রিটেইলারের কাছে যাওয়ার পর ফেরত পাঠানো হয়েছে তাঁকে।
মাহিনুর ঢাকার শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর কাজ করেন। তিনি বলেন, সিম কেনার সময় কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এখন নিবন্ধন করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে তাঁকে। রিটেইলাররা তাঁকে বলেছেন, দুই হাতের চারটি আঙুলের ছাপ দিতে না পারলে তাঁর সিম নিবন্ধিত হবে না।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ নিয়ে শনিবার প্রবাসী বাংলা কে জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের সিম নিবন্ধন করতে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। সেখান থেকে বলে দেওয়ার পরে যেতে হবে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) নিকটস্থ কার্যালয়ে। সেখানে নতুন করে তথ্য সংশোধন বা নতুন করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির পর শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সিম নিবন্ধন করাতে পারবেন।
তবে একাধিক অপারেটর জানিয়েছে, এ ধরনের বিশেষ ক্ষেত্রে সিম নিবন্ধনের আলাদা কোনো নির্দেশনা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে তাদের দেওয়া হয়নি। তবে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে এনআইডিতে পাঠিয়ে দেওয়াই নিয়ম।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, মাহিনুরের বয়স ২৮ বছর। তাঁর মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ফোন ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তিনি দুই অপারেটরের সিম ব্যবহার করেন। নিবন্ধন করাতে গিয়েছিলেন এয়ারটেলের সিম।
মাহিনুর বলেন, ‘আমাকে বলেছে পিতা-মাতা অথবা ভাইকে দিয়ে সিম নিবন্ধন করাতে হবে। আমি বলেছি তাঁদের এখন কোথায় পাব। তারা বলেছে, দুই হাতের আঙুলের ছাপ ছাড়া নিবন্ধন হবে না।’
তারানা হালিম বলেন, দুটি হাত নেই অথবা কোনো দুর্ঘটনায় একটি হাত হারিয়েছেন, এমন ব্যক্তিদের সিম নিবন্ধনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে। তাঁরা নির্দিষ্ট অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গেলে তাঁদের এনআইডির নিকটস্থ কার্যালয়ের ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধীদের সেখানে যেতে হবে।
এনআইডি কার্যালয়ে গেলে কীভাবে সমস্যার সমাধান হবে, সে সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রই নতুন করে তৈরি করা লাগতে পারে। এমন সমস্যা সমাধানে আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়সহ সারা দেশে এনআইডির ৫১৪টি কার্যালয়ে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন। এ তথ্য কোনো গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বা খুচরা বিক্রেতা গ্রাহককে জানাতে না পারলে সেটি তাদেরই জ্ঞানের ঘাটতি, এর দায়িত্ব তাদের নিতে হবে।
প্রতিবন্ধীসহ বিশেষ সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের সিম নিবন্ধনের জন্য প্রতি সপ্তাহের শনিবার প্রতিটি গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তারানা হালিম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সব ধরনের নির্দেশনাও অপারেটরদের দেওয়া হয়েছে। সিম নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর আরেকটি উদ্দেশ্যই ছিল এ ধরনের জনগোষ্ঠীর সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।
তবে একটি মুঠোফোন অপারেটরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিশেষ ক্ষেত্রে সিম নিবন্ধিত না হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে লিখিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসা দরকার। সেটি করা হলে তা আমাদের কাজ করার জন্য সুবিধা হবে। বিশেষ সমস্যা সমাধানে হাজার হাজার রিটেইলারকে ধরে ধরে জানানো সম্ভব নয়।’
এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন বা নতুন করে তৈরি করতে গিয়েও সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সংশোধন অথবা নতুন করে পরিচয়পত্র তৈরি করতে লাগছে দীর্ঘ সময়। ফলে আগামী ১৬ দিনের মধ্যে যাঁদের হাত নেই, তাঁদের নতুন করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে সিম নিবন্ধন করা অনেকটাই কঠিন হবে।
ইডেন কলেজের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একজন ছাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গত জানুয়ারিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তুলে ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে এসেছেন। এনআইডির সেই কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, আগামী জুনে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে বর্তমানে দেশে ১৩ কোটি ৮ লাখ সিম চালু আছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ কোটি সিম নিবন্ধিত হয়েছে।