নিষ্ক্রিয় সিম চালু করতে ৪৫০ দিন সময়

  ১  জুন ২০১৬, বুধবার 

আঙ্গুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন না করায় আজ থেকে আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ২ কোটি ২০ লাখ মোবাইল সিম। তবে স্থায়ীভাবে এসব সিম বন্ধ করা থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব সিম আবার চালু করতে চাইলে এখন থেকে একজন গ্রাহককে গুনতে হবে ১৫০-২০০ টাকা। অপারেটরদের কাছে সোমবার রাতে বিটিআরসি’র পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না হওয়ার কারণে বন্ধ করার দিন থেকে পরবর্তী ৪৫০ দিনের জন্য উক্ত গ্রাহক বন্ধ সংযোগটি বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সাপেক্ষে পুনরায় চালু করতে পারবেন। এদিকে গতকাল পর্যন্ত ১০ কোটি ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার সিম নিবন্ধন করা হয়েছে বলে জানায় বিটিআরসি। বর্তমানে দেশে মোট চালু থাকা সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৯ লাখ। সে হিসেবে গতকাল পর্যন্ত চালু থাকা সিমের ৭৯ শতাংশ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে। বিটিআরসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। শূন্য ঘণ্টা, শূন্য মিনিট, শূন্য সেকেন্ড থেকে অনিবন্ধিত সকল সিম নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। গতকাল শেষ দিনে মোবাইল গ্রাহকসেবা কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে বায়োমেট্রিক মেশিন পর্যাপ্ত থাকায় গ্রাহকদের কোনোরকম ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি বলে দাবি করেন অপারেটররা। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময়ে সিম নিবন্ধন না করার জরিমানা হিসেবে ব্যবহারকারীদের বাড়তি অর্থ দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আগের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এতদিন বিটিআরসি’র সিদ্ধান্ত ছিল, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমগুলো আগামী দুই মাস পর্যন্ত জব্দ (ফ্রিজ) অবস্থায় থাকবে। অর্থাৎ যে ব্যবহারকারী এতদিন সিমটি ব্যবহার করে এসেছেন, তিনি আগামী দুই মাস পর্যন্ত সেটি নিবন্ধনের মাধ্যমে চালু করার সুযোগ পাবেন না। দুই মাস সময় পার হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে অর্থাৎ ১৫০-২০০ টাকা খরচ করে সিমটি আবার চালু করা যাবে- এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে আগের নিয়ম থেকে সরে এসে বিটিআরসি বলছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন সম্পন্ন করে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমটি আবার চালু করা যাবে। এ জন্য দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। সোমবার বিষয়টি মুঠোফোন অপারেটরদের জানিয়ে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বিটিআরসি’র সচিব ও মুখপাত্র সরওয়ার আলম বলেন, ‘গ্রাহক স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই সিম নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছিল। সময় বাড়ানোর পরও যারা সিম পুনঃনিবন্ধন করেননি, তদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেই সিম চালু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি’র নির্ধারিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিটিআরসি’র নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম একটানা ১৮ মাস বা ৫৪০ দিন বন্ধ থাকলে সেটির মালিকানা গ্রাহকের থাকে না। এর মধ্যে ১৫ মাস বা ৪৫০ দিন সময় পার হলে মুঠোফোন অপারেটররা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিষ্ক্রিয় সংযোগটি পরের ৯০ দিনের মধ্যে চালু করার জন্য গ্রাহককে অনুরোধ করে। এভাবে মোট ১৮ মাস সময়ে সিমটি চালু করা না হলে সেটির মালিকানা বর্তমান ব্যবহারকারীর থাকে না। আজ থেকে বন্ধ হতে যাওয়া সংযোগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নতুন সংযোগ কিনতে অপারেটর ভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম রাখা হয়। এর মধ্যে সরকার সিম কর হিসেবে ১০০ টাকা পায়। বাকি অর্থ সিমের মূল্য হিসেবে অপারেটররা পেয়ে থাকে। গত ১৬ই ডিসেম্বর সিম নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হওয়ায় আঙ্গুলের ছাপ না দিয়ে এখন আর নতুন সিম কেনা যাচ্ছে না।