ফোনে আড়ি পাততে আসছে আরো ৭ যন্ত্র

  ২  জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার 

‘ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইভার আইডেনটিটি (আইএমএসআই)’ কিনতে যাচ্ছে সরকার। হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী অপতৎপরতা রোধ করতে এসব যন্ত্র কেনা হচ্ছে। এ যন্ত্রটি ৩০ মিনিটের মধ্যে টার্গেট মোবাইল খুঁজে পায়। খুঁজে পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে টার্গেট মোবাইল ফোন লক করে দেয়। ডিভাইসটি আকারে ছোট ও ব্যবহার উপযোগী। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে  আড়িপাতার সাতটি যন্ত্র কিনতে লাগছে ৩০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪০ টাকা। পুলিশ বাজেটের সংশ্লিষ্ট খাত থেকে এর ব্যয় মেটানো হবে। গত ৩০শে মে সাতটি আড়িপাতা মেশিনের বিপরীতে প্রায় ৩১ কোটি টাকার অনুমোদন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তারা। অবশেষে আড়িপাতা মেশিন কেনার কাজটি পেতে যাচ্ছে ‘থ্রি সিক্সটি টেকনোলজিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কারণ প্রথম পুনঃদরপত্রেও তারা ছিল একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান। তারা সিঙ্গাপুরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠান প্যানমার্ক ইমপেক্স প্রাইভেট লিমিটেডের সরবরাহকারী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র অনুমোদনসহ ব্যয় মঞ্জুরি এবং মূল্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শতভাগ অপ্রত্যাহারযোগ্য এলসি খোলার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তর ও পুলিশের কয়েকটি সংস্থার কাছে আড়িপাতা যন্ত্র রয়েছে। এক সঙ্গে সাতটি আড়িপাতা যন্ত্র এর আগে কখনোই কেনা হয়নি। তাই সাতটি আড়িপাতা যন্ত্রের দরপত্র প্রস্তাব অনুমোদন মিললে এটাই হবে বড় লট। আড়িপাতা যন্ত্র কিনতে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মহলের অপতৎপরতা, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস, হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী অপতৎপরতার কৌশল বর্তমানে ভিন্ন মাত্রায় রূপ নিচ্ছে। এসব অপকৌশল ও অপরাধ সংঘটনে অতি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির থ্রিজি/ফোর জি মোবাইল ফোন ও ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব প্রেক্ষাপটে পুলিশের অপারেশনাল কাজে গতিশীলতা, দক্ষতা বাড়ানো, জঙ্গি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অপরাধী গ্রেপ্তারের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার, শিল্প কারখানায় উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সাধারণ জনগণের জানমালের হেফাজতে সর্বোচ্চ সেবা দিতে বর্তমানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইভার আইডেনটিটি (আইএমএসআই)’ জরুরিভিত্তিতে কেনা আবশ্যক। এর আগে ২০১৫ সালের ৩০শে আগস্ট প্রথম আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে ওই দরপত্রে অংশ নেয়া রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত দুইটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন না থাকায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পুনঃ দরপত্রের সুপারিশ করে। ওই অনুযায়ী একই বছরের ২৪শে নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রথম পুনঃদরপত্রটি গ্রহণ না করায় দ্বিতীয় পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ১৯শে এপ্রিল থেকে ১৫ই মে পর্যন্ত এ দরপত্রের বিপরীতে আটটি টেন্ডার সিডিউল বিক্রি হয়। তবে একটি মাত্র কোম্পানি টেন্ডার জমা দেয়। ওই দরপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ক্রয় প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ প্রস্তাবটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।