পরিবার ও বন্ধুকে বেশি গুরুত্ব দেবে ফেসবুক

  ৩০  জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার  

সহ দেখতে ক্লিক করুন

ফেসবুকফেসবুকের নিউজ ফিডে এখন আর কোনো মিডিয়া বা খবরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে না। এর বদলে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া পোস্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়।

ফেসবুকের এই নীতির ফলে যেসব মিডিয়া ফেসবুক থেকে পাঠক তাদের ওয়েবসাইটে টেনে আনে, তাদের ক্ষতি হবে।

ফেসবুকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের নিউজ ফিডের লক্ষ্য হচ্ছে সংগতিপূর্ণ পোস্ট বেশি করে দেখানো। ফেসবুকের নিউজ ফিড হালনাগাদ করার ফলে এখন বন্ধু পরিবারের সদস্যদের দেওয়া পোস্ট বেশি দেখা যাবে।

সম্প্রতি ‘ট্রেন্ডিং টপিক’ নিয়ে সমালোচনার মুখে ফেসবুক এই পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিল। ট্রেন্ডিং টপিক দেখাতে ফেসবুক কিছু রাজনৈতিক বিবেচনা দেখায় এ ধরনের সমালোচনা তৈরি হলেও ফেসবুক তা অস্বীকার করে।


ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে কোনো পক্ষপাত দেখানো হয় না। প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পক্ষপাতহীন থাকতে ফেসবুক সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মোসেরি এক ব্লগ পোস্টে বলেন, তাঁরা অ্যালগারিদম হালনাগাদ করেছেন। এতে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনমতো তথ্য দেখতে পাবেন। বিশ্ববাসীর পড়তে ভালো লাগবে—এমন বিষয় তুলে আনার ব্যবসা তাঁরা করেন না। তাঁরা মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ও ধারণা নিয়ে ব্যবসা করেন।

ফেসবুক যদিও মিডিয়া বা খবর সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় করাতে চায় না, এরপরও কিছু সমীক্ষা বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে খবরের প্রধান উৎস ফেসবুক। মানুষ ফেসবুকে অন্য কারণে এলেও তারা সেখানে খবর পড়ে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ৬৬ শতাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো না কোনো খবর পেয়ে থাকে। বৈশ্বিক ট্রেন্ডও একই রকম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের ২৬টি দেশ নিয়ে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগের সাইট খবর পড়ার জন্য ব্যবহার করেন। মাত্র ১২ শতাংশ মূল উৎস থেকে খবর পড়েন। এর মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে এগিয়ে। তথ্যসূত্র: এএফপি।