রবি-এয়ারটেল একীভূত

 ১ সেপ্টেম্বর  ২০১৬,  বৃহস্পতিবার  সহদেখতে ক্লিক করুন

মোবাইল অপারেটর রবি-এয়ারটেল একীভূত হতে অনুমোদন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে প্রায় চার কোটি গ্রাহক নিয়ে গ্রামীণফোনের পরে এটাই হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ অনুমোদন দেন। একীভূত হওয়ার পর রবি ও এয়ারটেল- দুই কোম্পানির গ্রাহকরাই পরিচিত হবেন ‘রবি’ গ্রাহক হিসেবে। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রবি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তারা চলতি বছরের মধ্যে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে। এদিকে একীভূত হওয়ার ফি হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) মোট ৬০৭ কোটি টাকা দিতে হবে রবিকে। এর মধ্যে তরঙ্গ ফি হিসেবে ৫০৭ কোটি টাকা ও একীভূতকরণ ফি হিসেবে ১০০ কোটি টাকা। এই অর্থ কিভাবে বিটিআরসি রবির কাছ থেকে নেবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার আদালত বিটিআরসির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বিটিআরসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-?ই রাকীব। রবি-এয়ারটেলের পক্ষে ছিলেন তানজিব-উল আলম। এয়ারটেলের কর্মীদের পক্ষে ছিলেন সাদ সামি আহমেদ। বর্তমানে ৩ কোটি ২৮ লাখ গ্রাহক নিয়ে বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলালিংক। বিটিআরসিতে জমা দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, একীভূত কোম্পানিতে রবির ৭৫ শতাংশ আর এয়ারটেলের ২৫ মালিকানা থাকবে। বর্তমানে রবির ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক আজিয়াটা গ্রুপ আর ৮ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক এনটিটি ডোকোমো। এয়ারটেল বাংলাদেশের ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভারতী এয়ারটেল। মোবাইল ও টেলিযোগাযোগ সেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তরঙ্গ। বর্তমানে এয়ারটেলের কাছে ২০ মেগাহার্টজ আর রবির কাছে আছে ১৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। দুটি প্রতিষ্ঠানের মোট তরঙ্গের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৯ দশমিক ৮০ মেগাহার্টজ। বর্তমানে গ্রামীণফোনের কাছে সর্বোচ্চ ৩২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ আছে। উন্নত মানের ভয়েস কল, দ্রুতগতির ইন্টারনেট থেকে শুরু করে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা দেয়ার জন্য তরঙ্গ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সারা দেশে রবি ও এয়ারটেলের ১০০-এর বেশি নিজস্ব গ্রাহকসেবা কেন্দ্র, ১১ হাজার পরিবেশক ও আড়াই লাখ খুচরা বিক্রেতা এক ছাতার নিচে চলে আসবে। রবি ও এয়ারটেলের মোবাইল টাওয়ার আছে ১৪ হাজারের বেশি, এর মধ্যে রবির টাওয়ার সংখ্যা ৮ হাজার ৭০০ ও এয়ারটেলের সাড়ে ৫ হাজার। রবির বাংলাদেশে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। টেলিকম মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের শিল্পগোষ্ঠী এ কে খান গ্রুপের যৌথ অংশীদারীর এই কোম্পানি ২০১০ পর্যন্ত একটেল নামে পরিচালিত হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রবি বাংলাদেশে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আর ওয়ারিদ টেলিকমকে ২০১০ সালে কিনে নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে এয়ারটেল। এখন পর্যন্ত এ দেশে এয়ারটেল বিনিয়োগ করেছে ১২ হাজার কোটি টাকা।

রবি কর্তৃপক্ষের সন্তোষ প্রকাশ
এদিকে উচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রবি’র চিফ করপোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার (সিসিপিও) মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, মহামান্য উচ্চ আদালত রবি আজিয়াটা লিমিটেড (রবি) ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের (এয়ারটেল) একীভূতকরণের পক্ষে রায় দেয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) ও ভারতী এয়ারটেল অব ইন্ডিয়া (ভারতী) বাংলাদেশে তাদের কোম্পানিগুলাকে একীভূতকরণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই এ অনুমোদন দিয়েছে উচ্চ আদালত। রবি’র সিসিপিও  বলেন, মহামান্য উচ্চ আদালতের এই রায় বাংলাদেশের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশনা এবং একীভূতকরণের চুক্তিতে উল্লিখিত আইন সম্মত শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সেই হিসেবে ২০১৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ  করা সম্ভব হবে আমরা আশা করছি। আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ, ভারতী এয়ারটেল, এনটিটি ডকোমো ও তাদের স্টেক হোল্ডারদের পক্ষ থেকে একীভূতকরণের পুরো প্রক্রিয়ায় অকুণ্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, সব স্টেকহোল্ডার ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের রবি ও এয়ারটেল বাংলাদেশ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে গঠনমূলক ও সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে এই একীভূতকরণ নিশ্চিতভাবে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে আমাদের অংশগ্রহণকে আরো জোরালো করতে এই অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একটি গ্রাহককেন্দ্রিক কোম্পানি হিসেবে দেশজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের আওতায় আরো বেশিসংখ্যক গ্রাহকের হাতে টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দেয়ার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।