সমুচিত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

 ১৪ জানুয়ারি২০১৮ রবিবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ সাদেক আমোলি লারিজানিসহ দেশটির ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞার ‘যথাযথ জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। লারিজানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক আইন ও আচার-আচরণের প্রচলিত সব রীতির সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে গতকাল এসব কথা বলা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে ইরানের কয়েকটি শহরে গত মাসের শেষ দিকে সরকারবিরোধী তুমুল বিক্ষোভ হয়। এক সপ্তাহের এ বিক্ষোভে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হন। এ ছাড়া গ্রেফতার হন আরও অন্তত ৫০০। সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভের জন্য ইরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ লারিজানি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হস্তে দমনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি বন্দীদের ওপর নির্যাতন বা অঙ্গহানি করাসহ নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং লজ্জাজনক আচরণ বা শাস্তির জন্য আয়াতুল্লাহ লারিজানি দায়ী।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে ২০১৫ সালে দেশটির সঙ্গে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিশ্বের ছয়টি দেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই পূর্ববর্তী ওবামা প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত এ চুক্তির কড়া সমালোচনা করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটিকে ওয়াশিংটনের পক্ষে করা এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে বাজে’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন ট্রাম্প। এ চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্র করে পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় কিছু ছাড় পেয়ে আসছে। আর এ চুক্তি প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, তেহরানের প্রতি এ ধরনের ছাড় তার প্রশাসন শেষবারের মতো বর্ধিত করছে। বিবিসি।

সেই সঙ্গে এ চুক্তিতে থাকা তার ভাষায় ‘মারাত্মক ত্রুটিগুলো’ সংশোধনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপকে শেষবারের মতো সুযোগও দিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের তরফে তেহরানের ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাও দেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লারিজানির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে বিদ্যমান আচরণের সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইরানি প্রজাতন্ত্রের তরফে এ পদক্ষেপের জবাব অবশ্যই যথাযথভাবে দেওয়া হবে।’ বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণের ওপর শত্রুতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বার বার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখার অভিযোগও আনা হয়ছে।

এদিকে পরমাণু চুক্তিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে তেহরান। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে এ ধরনের তত্পরতাকে ‘দৃঢ় একটি চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার বেপরোয়া প্রচেষ্টা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ।