মিয়ানমারে আমন্ত্রিত বিদেশি সাংবাদিকরাও ছিলেন না স্বাধীন

 ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার সহ দেখতে ক্লিক করুন

মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ রাখাইন অঞ্চল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন একদল বিদেশি সাংবাদিক৷তবে দেশটিতে তাদের স্বাধীনভাবে কোথাও যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল৷ নিষেধাজ্ঞা ছিল খুশিমতো কারো সঙ্গে কথা বলাতেও৷জার্মান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে এ খবর প্রকাশ করেছে।

খবরে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার তাদের নিয়ে গেছে এমন সব এলাকায়, যেখান থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছে৷ সেখানে কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল সাংবাদিকদের, যারা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন রোহিঙ্গারা কার্যত স্থানীয় হিন্দুদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে!তবে সাংবাদিকদের ধোঁকা দিতে গিয়ে ফেঁসেছে স্থানীয়রা৷

স্থানীয় এক বৌদ্ধ বাসিন্দা সাংবাদিকদের কয়েকটি ছবি দেখান, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল কমলা রংয়ের পোশাক পরা এক মহিলা একটি ঘরে আগুন দেয়ার পর দা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন৷ অপর ছবিতে সেই নারীর সঙ্গে ঘরে আগুন দিতে আরেক পুরুষকে দেখা যায়৷ স্থানীয় এক মঠাধ্যক্ষ এবং সেই বৌদ্ধ সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ছবিতে দেখা মানুষরা রোহিঙ্গা এবং তারা নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে৷

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন সাংবাদিকরা ছবির সেই মানুষদের কাছেরই একটি স্কুলে আবিষ্কার করেন, যেখানে সহিংসতার শিকারদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে মিয়ানমার সরকার৷ বার্তা সংস্থা এপি এবং বিবিসি'র সাংবাদিকরা ছবিতে থাকা নারীকে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়৷ আর তাঁর সঙ্গে ছবিতে থাকা পুরুষটিও হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিয়ানমারের নাগরিক৷ তাদের দু'জনের পরনে তখনও ছবিতে পরা পোশাকই ছিল৷

ধারনা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের উপর দোষ চাপাতে সাংবাদিকরা সেই এলাকায় যাওয়ার কিছু আগে ঘটনা সাজিয়ে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল৷ কিন্তু সাংবাদিকরা পরবর্তীতে ছবির মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আবিষ্কার করায় সেটা আর সম্ভব হয়নি৷

তবে পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের ভয়াবহতা বোঝাতে অন্য ঘটনার ছবি রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের ছবি হিসেবে প্রকাশের অনেক ঘটনাও ঘটেছে৷ তার মধ্যে কোনো কোনো ছবি ইন্টারনেটে ভাইরালও হয়েছে৷ 

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্টে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী৷ এতে প্রাণ হারায় চার শতাধিক ব্যক্তি৷ আর সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী৷