রোজায় চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তি

 ১৯ মে ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

রোগী কোন অবস্থায় রোজা রাখতে পারবেন, কখন পারবেন না এ বিষয়ে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা থাকলেও অসুস্থ অবস্থায় যারা রোজা রাখতে চান তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা এবং ওষুধ প্রয়োগ নিয়ে অনেকের মাঝেই নানা রকম বিভ্রান্তি রয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় অনেকেই রোজা রাখতে আগ্রহী হন কিন্তু ওষুধ গ্রহণ বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই রোজা রাখতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হন। আবার এমন জটিল রোগীও আছেন যারা বলেন, যা হওয়ার হবে, তবুও রোজা ছাড়ব না। এ নিয়ে ডাক্তাররাও অনেক সময় অসুবিধায় পড়েন। রোজা থাকাকালীন কোনটি উচিত, কোনটি অনুচিত তা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারেন না। ইসলামিক চিন্তাবিদরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও গবেষণা করে রোজা অবস্থায় ওষুধ প্রয়োগ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে সুচিন্তিত তথ্য উপস্থাপন করেন, যা ২০০৪ সালে বিখ্যাত ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ হিসেবে প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় যেসব ওষুধ গ্রহণে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না বলে মত দেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরা হলো— রোজা অবস্থায় চোখ, নাক ও কানের ড্রপ, স্প্রে, ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে। হার্টের এনজাইনার সমস্যার জন্য হঠাৎ বুক ব্যথা উঠলে ব্যবহূত নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট বা স্প্রে জিহ্বার নিচে ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। শিরাপথে খাদ্য উপাদান ছাড়া কোনো ওষুধ ত্বক, মাংসপেশি, হাড়ের জোড়ায় ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রোজা রাখা অবস্থায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ জাতীয় কোনো তরল শিরাপথে গ্রহণ করা যাবে না। চিকিৎসার প্রয়োজনে রোজা রেখে অক্সিজেন কিংবা চেতনানাশক গ্যাস গ্রহণে রোজা নষ্ট হবে না। এছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার ইত্যাদি ব্যবহার করলে রোজার কোনো সমস্যা হবে না। রোজা রেখে জরুরি ভিত্তিতে দাঁত তোলা যাবে এবং দাঁতের ফিলিং করা যাবে এবং ড্রিল ব্যবহার করা যাবে। রোজা রেখে রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে এবং কাউকে রক্ত দানেও কোনো বাধা নেই। পিরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যোনিপথ কিংবা পায়ুপথে চিকিৎসক বা ধাত্রী আঙ্গুল প্রবেশ করালেও রোজা নষ্ট হবে না। এছাড়া রোজা রেখে জরায়ু পরীক্ষার জন্য হিস্টোরোস্কোপি এবং আইইউসিডি ব্যবহার করা যাবে। হার্ট কিংবা অন্য কোনো অঙ্গের এনজিওগ্রাফি করার জন্য কোনো রোগ নির্ণায়ক দ্রবণ শরীরে প্রবেশ করানো হলে তাতেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। একইভাবে কোনো অঙ্গের অভ্যন্তরীণ চিত্রধারণের  জন্য সেই অঙ্গের প্রবেশ পথে কোনো ক্যাথেটার বা নালির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তরল রঞ্জক প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হবে না। রোগ নির্ণয়ে এন্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করলেও রোজা নষ্ট হয় না। তবে এন্ডোস্কোপি বা গ্যাস্ট্রোস্কোপি করার সময় ভিতরে তরল কিংবা অন্য কোনো কিছু প্রবেশ করানো যাবে না, যার খাদ্যগুণ রয়েছে। রোজা রাখা অবস্থায় বায়োপসি করা যাবে।

লেখক : ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ