সাহরি ও ইফতারে কি খাবেন

 ২৬ মে ২০১৮ শনিবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আমাদের দেশে এ বছর রোজার মোট সময়কাল প্রায় ১৫ ঘণ্টা। তাই সাহরিতে এমন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত যাতে খাদ্যবস্তু হজমের পর অনেক বেশি সময় ধরে রোজাদারকে শক্তির জোগান দিয়ে কর্মচাঞ্চল্যতা বজায় রাখতে পারে এবং তা যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয়, যাতে পরিপাকতন্ত্রের ওপর কোনো রূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি না হয়। সাহরিতে লাল চালের ভাত ও লাল আটার রুটি উত্তম খাবার, কারণ এ ধরনের খাদ্য হজম হতে বেশি সময় নেয় বলে রোজাদার ব্যক্তির ক্ষুধার অনুভূতি কম হয়ে থাকে এবং বেশি কর্ম সম্পাদনের যোগ্যতা বজায় থাকে। সাহরিতে মাছ, মুরগির মাংস, ডাল, সবজি ও ফলমূল এবং দুধ-দধি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যসম্মত ও রোজা পালনের সঙ্গে মানানসই। সাহরিতে ফলমূল বেশি গ্রহণ করলে তা সকাল বেলার অলসতা দূর করে রোজাদারকে কর্মক্ষমতা দান করে। সাহরির পর অনেকেই ঘুমাতে বেশি পছন্দ করেন এবং অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়েই কাটান, এটা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয় বরং সাহরির পর বেশি সময় ধরে না ঘুমানোই উত্তম। সাহরির সময় চা বা কফি অথবা সফট ড্রিকংস গ্রহণ না করাই উত্তম। কারণ এসব খাদ্যবস্তু গ্রহণের ফলে রোজাদারের প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে শরীর অতি শিগগিরই পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। কার্বোহাইড্রেটযুক্ত (ভাত, রুটি, আলু, চিনি) খাদ্যবস্তু গ্রহণের ফলে তা কর্মদক্ষতা কমিয়ে ওজন বৃদ্ধি করে, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে থাকে। অনেকেই সাহরিতে অতিভোজন করে থাকেন এই ভেবে যে, অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হবে, কিন্তু সাহরিতে বেশি পরিমাণে খাদ্য গ্রহণের ফলে দিনের বেলায় ক্ষুধার অনুভূতি বেশি হয়ে থাকে এবং হজমের সমস্যা দেখা দিয়ে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। সাহরিতে ডিম ও মাংস পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা যাবে তবে গুরুপাক ও অত্যধিক মসলা সমৃদ্ধ খাদ্য না খাওয়াই উত্তম, এতে হজমের সমস্যা ও পেটে গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিকে ইফতারে অতি তাড়াতাড়ি বেশি খাদ্য গ্রহণ এক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করে থাকে যেমন- বুকজ্বালা, ঢেঁকুর ওঠা, পেটে এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি। ইফতারিতে বেশি করে তরল খাদ্য যেমন- ফলের রস, দুধ, দই, ফলের সরবত ও ডাবের পানি বেশি পরিমাণে পানি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা স্বাস্থ্যসম্মত।

রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে অনেকেই আমরা নিজেদের পছন্দ মাফিক ইফতার যেমন- মিষ্টি, খিচুড়ি, পায়েস, সেমাই, হালিম, ইত্যাদি খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ি, এটা মোটেও উচিত নয়, তার মানে এই নয় যে, ইফতারে আমরা মজাদার খাদ্য গ্রহণ করব না, খাবার অবশ্যই স্বল্পমাত্রায় গ্রহণ করতে হবে।

ডা. এম শমশের আলী, কার্ডিওলজিস্ট,

সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।