সাহরি-ইফতারে অতিভোজন নয়

 ২৮ মে ২০১৮ সোমবার  ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

ঐতিহ্যগতভাবে আমরা সাহরি ও ইফতারে যেসব খাবার গ্রহণ করে থাকি সেগুলোর সবই যে যথাযথ তা কিন্তু নয়। এসব খাবারের মধ্যে কিছু খাবার রয়েছে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত কিংবা পুষ্টিকর খাবার হলেও সময়োচিত নয়। রোজার সময় খাবারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রমাদান ফাস্টিং রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের গবেষণায় দেখা গেছে, রোজার সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোজাদাররা অসুস্থ হয়ে পড়েন যথাযথ খাবার গ্রহণ না করার কারণে। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কারণেই এই অসুস্থতা দেখা দিয়ে থাকে। এর সঙ্গে অপর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে কিছুটা বিপাকে ফেলে দেয়। রোজায় এই শারীরিক বিপত্তি এড়ানো খুবই সহজ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সারা দিন রোজা রাখার পর সারা দিনের খাবার একসঙ্গে খেতে হবে এরকম মানসিকতা থেকেই এই বিপত্তি দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞের কথা হচ্ছে, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে পাকস্থলীর একটা নির্দিষ্ট আয়তন ও খাবার ধারণের ক্ষমতা রয়েছে; শুধু এক দিন কেন,  তিন দিন না খেয়ে থাকার পরও পাকস্থলী তার ধারণ ক্ষমতার বেশি খাবার গ্রহণ করতে পারবে না। সুতরাং বেশি খেলে বিপত্তি ঘটবেই। তাই এ ধরনের বিপত্তি এড়াতে গবেষকদের প্রথম উপদেশ হচ্ছে সাহরি ও ইফতারে অতিভোজন পরিহার করা। দ্বিতীয়ত, শরীর নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে রোজার সময় বিপাকক্রিয়ার হার কমিয়ে দেয় এবং শরীরে জমাকৃত চর্বি ক্ষুধা নিবারণে ব্যবহূত হয়। রোজার সময় খাবারের ব্যাপারে অধিকাংশ লোকই রুচিকর খাবার গ্রহণের দিকে বেশি মনোযোগী থাকে কিন্তু সুষম খাবার বা ব্যালান্স ডায়েটের কথা মনে রাখেন না। রোজায় সুস্থ থাকার জন্য সব ধরনের খাবার মিলিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে আটা বা চাল, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার, মাছ, মাংস এবং ডিম, শস্যদানা, শাকসবজি এবং সর্বোপরি ফল জাতীয় খাবার রাখা উচিত। সাহরি এবং ইফতার উভয়ের পরই ফল খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এই গবেষণায়। সাহরির পর কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট। তবে কলা কারও কারও ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য করে থাকে। সে ক্ষেত্রে আঁশ জাতীয় খাবার সঙ্গে খেলে আর কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার কথা নয়। রোজায় সুষম খাবার পরিমাণমতো গ্রহণ করলেই শরীর সুস্থ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুষম খাবার খেয়ে রোজা রেখে ইফতারের আগে হাত-পা সঞ্চালন জাতীয় হালকা ব্যায়াম এবং সময়মতো নামাজ আদায় করলেই অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা রোজা থেকে ওজন কমানোর সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে এ নিবন্ধে। গবেষকরা বলেছেন, রোজার খাবার যত সাধারণ হবে ততই ভালো।

আমাদের জোর দিতে হবে আশযুক্ত খাবারে।

তাই সুস্থতার জন্য এসময় সাহরি ও ইফতারে অতি ভোজন অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, মিলড্রেড এলি ক্যারিয়ার কলেজ, নিউ ইয়র্ক সিটি ক্যাম্পাস, যুক্তরাষ্ট্র।