তারেক বাবরসহ ৪৯ জনের ফাঁসি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

 ২ জানুয়ারি২০১৮ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

চাঞ্চল্যকর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৪৯ আসামির ফাঁসি চেয়ে নিজেদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপন শুরু করে ২৫ কর্মদিবসে গতকাল সোমবার তার যুক্তিতর্ক শেষ করেন। এরপর ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ (মঙ্গলবার) থেকে আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করার মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই মামলাটি সমাপনী পর্যায়ে চলে এলো। আসামি পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হলেই রায়ের জন্য দিন ঠিক করবেন বিচারক।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই নির্মম হামলায় আওয়ামী লীগের তত্কালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তত্কালীন বিরোধী দলের নেতা, বতর্মান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ হামলায় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ২৫৫ জন সাক্ষী উপস্থাপনের মাধ্যমে আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে এবং বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মামলার ৪৯ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) চেয়েছি।

গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান লিগ্যাল পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সৈয়দ রেজাউর রহমান আসামিদের অপরাধ প্রমাণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পক্ষে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যা মামলা, ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলা ও ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতের দেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নজির হিসেবে তুলে ধরেন। সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এসব মামলার সিদ্ধান্তের আলোকে সন্দেহের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট পরিচালিত ওই গ্রেনেড হামলার লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করাই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, বিভিন্ন সরকারি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির সরকারি বাসভবনসহ ষড়যন্ত্রমূলক সভার বিভিন্ন স্থানের তথ্যও তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রধান কৌঁসুলিকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ঢাকা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আবদুল মান্নান, বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল, আবুল কালাম আজাদ, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসানাত প্রমুখ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় মোট ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৩ আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান এবং শরীফ সাইফুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ওই সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হকসহ আটজন জামিনে রয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপি নেতা হারিস চৌধুরীসহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে আদালতে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন।