ঢাকায় হবে নৌকা-ধানের লড়াই

 ৫ জানুয়ারি২০১৮ শুক্রবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির (উত্তর-দক্ষিণ) নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান। এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হবে ৯ জানুয়ারি। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগ শিগগিরই তাদের প্রার্থী ঘোষণা দেবে। তবে দুই দল থেকেই বেশ কয়েকজন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর মেয়র পদে প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ থেকে আলোচনায় আসে বিসিএস ক্যাডারের সাবেক উপসচিব ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচ বি এম ইকবাল, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক খানসহ কয়েকজনের নাম। এর পরই বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম খানকে সিটিতে পরিচিত হওয়ার জন্য বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে বিএনপিতে আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার ছেলে তাবিথ আউয়ালকে ঘিরে আলোচনা হয়। তবে ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম ও বরকতউলল্লাহ বুলুও আলোচনায় ছিলেন। এর মধ্যে নোয়াখালী বাড়ি এমন আরেকজন বড় শিল্পপতির ছেলেকে নিয়েও বিএনপির ভেতর গুঞ্জন এখনো আছে। আওয়ামী লীগের মতো ভোট নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো মন্তব্য করেননি। এর পরও আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে গতকাল নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা সিটিতে কে চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন তা নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে দুই দলেই। আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলীয় প্রধানরা চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত কে আসলে ভোট করবেন তা বলা মুশকিল। এদিকে তফসিলের আগে ৬ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকার দুই সিটির সব আগাম প্রচারসামগ্রী অপসারণে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। এ জন্য সিটির বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন বিভাগীয় কমিশনার। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত সময়ে পোস্টার-বিলবোর্ড অপসারণ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবে কমিশন। এ নির্বাচনে আংশিকভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হতে পারে।

ঢাকার দুই সিটিতে ভোট ২৬ ফেব্রুয়ারি : ঢাকার দুই সিটির ভোট নিয়ে গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে বৈঠক। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনএসসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন ও এই সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য আলাদাভাবে তিনটি তফসিল ঘোষণা করা হবে ৯ জানুয়ারি। তফসিলের সম্ভব্য অন্যান্য তারিখের বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় এবং মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ২৮-২৯ জানুয়ারি; আর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৮ ফেব্রুয়ারি রাখার চিন্তা রয়েছে। তবে এসব তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে (টেবিলঘড়ি প্রতীকে) আনিসুল হক পেয়েছিলেন ৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত (আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের) প্রার্থী তাবিথ আউয়াল পেয়েছিলেন বাস প্রতীকে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০ ভোট। মেয়র পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। প্রায় দুই বছর ধরে ওই দায়িত্ব পালনের মধ্যেই গত বছর জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিসে আক্রান্ত আনিসুল হক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। এরপর ১ ডিসেম্বর মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সে ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কমিশনের। বিধান অনুযায়ী উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র (অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য) ১৩ মে ২০২০ পর্যন্ত বহাল থাকবেন। এই সিটিতে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ভোট হওয়ার পর ওই বছর ১৪ মে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দুই সিটির হালনাগাদ তথ্য : ঢাকা উত্তর সিটির সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮; ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৩৪৯, ভোটকক্ষ ৭ হাজার ৫০০, ভোটার ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৬ জন (পুরুষ ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩১ এবং নারী ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৪৫৫ জন)। ২০১৫ সালে উত্তরে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি, কেন্দ্র ১ হাজার ৯৩, সাধারণ ওয়ার্ড ৩৬ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে ৩৬ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৪, সম্ভাব্য কেন্দ্র ৪৮৭। ইসির কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তরের ১৮ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ২৫৬; ভোটকক্ষ ১ হাজার ৬৪৮; ভোটার ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৬২ জন (পুরুষ ২ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৫ ও নারী ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭৭ জন)। ঢাকা দক্ষিণে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ২৩১; ভোটকক্ষ ১ হাজার ২৩১, ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮৩২ জন (পুরুষ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৮ ও নারী ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৮৪ জন)।

পরিষদের মেয়াদ পর্যন্ত নতুন কাউন্সিলরের মেয়াদ : স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৬ জুলাই দুই সিটি করপোরেশনে ৩৬টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে নতুন সীমানা নির্ধারণের গেজেট জারি করে। এরপর ৮ আগস্ট এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট করতে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়। এসব ওয়ার্ডে নতুন যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন, তাদের মেয়াদও হবে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত। ঢাকা দক্ষিণ সিটির ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ১৬ মে পর্যন্ত এবং উত্তরের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত হবে তাদের মেয়াদ।