মেয়র নয়, কাউন্সিলরে ব্যস্ততা আওয়ামী লীগে

 ৮ জানুয়ারি২০১৮ সোমবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন। এ নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে আতিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের ‘স্বঘোষিত প্রার্থী’ হওয়ায় তাঁর সম্পর্কে আগ্রহ নেই দলীয় নেতা-কর্মীদের। তবে ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন পেতে চলছে আওয়ামী লীগ নেতাদের দৌড়ঝাঁপ। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় এমপি, মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাসা, বাড়ি ও অফিসে ধরনা দিচ্ছেন সমর্থন প্রত্যাশীরা। নিজ নিজ এলাকায় পোস্টারিং, ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে তারা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগরের কার্যালয়, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রয়াত আনিসুল হকের মতোই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী দিতে চায় দলের হাইকমান্ড। এরই মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও করা হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কয়েক দফা সাক্ষাৎ করার পর নৌকার পক্ষে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণায় যেমন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীদের তেমন দেখা যাচ্ছে না, তেমনি তার সঙ্গে নেই দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্ক। অবশ্য আওয়ামী লীগ আতিকুলের মতো অরাজনৈতিক নেতাকে ঢাকা উত্তরে মেয়র প্রার্থী করতে নীতিগত অবস্থান নিয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেয়র পদ নিয়ে দলীয় নেতাদের খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সবাই দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। তবে নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দশম সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং বনানীর পূজা মণ্ডপ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যাপক শোডাউন করেন। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দলীয় সভানেত্রী এবং নিজ নিজ এলাকার এমপিদের ছবি দিয়ে ফেস্টুন, পোস্টার নিয়ে হাজির হন। ঢাকা উত্তরের কাউন্সিলর  প্রার্থীরা ঢাকা-১৮ আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, ঢাকা-১১ আসনের এমপি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহর বাসা বাড়িতে ধরনা দিচ্ছেন। কেউ কেউ নেতাদের অফিসে গিয়েও কুশল বিনিময় ও নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, ঢাকা-৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের বাসা ও অফিসে যাওয়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ সচিবালয়ে গিয়ে দেখা করছেন প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সঙ্গে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন চান ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতা রবিউল ইসলাম রবি। তিনি গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সাহারা খাতুন ও মুহম্মদ ফারুক খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া চেয়েছি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন করে সম্পৃক্ত ৬৪, ৬৫-৬৬ এবং ৬৭-৬৮, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকরা নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। কাউন্সিলর নির্বাচনে এসব ওয়ার্ডকে শতভাগ বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তা ছাড়া মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্সের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। গত কয়েকদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ধানমন্ডি দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় এবং ঢাকা মহানগর যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অফিসে ঘুরতে দেখা গেছে, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী নুরুল আমিন নিরু, ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনির হোসেন, ৭৪ নম্বরের আবুল কালাম আজাদ, ৬৭ নম্বরের খলিলুর রহমান, ৬৯ নম্বরে হাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, ৭১ নম্বরের হাজী বিপ্লব, ৫৯ নম্বরের আকরাম হোসেন সেন্টুসহ অনেককেই। ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য প্রার্থী মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুরুল আমিন নিরু বলেন, দীর্ঘদিন এলাকায় কাজ করছি, আশা করি কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন পাব। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে ছিলাম, আছি এবং থাকব। জনপ্রতিনিধি হয়ে তাদের আরও সেবার সুযোগ চাই। এ জন্য দলের সমর্থন চাইব। ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রত্যাশী মনির হোসেন বললেন, দলের নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন-সেটাই চূড়ান্ত। ঢাকা ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সাবেক ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ হানিফ তালুকদার গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।