পাঁচ সিটিতে প্রার্থী কারা

 ৯ জানুয়ারি২০১৮ মঙ্গলবার ভিডিওসহ দেখতে ক্লিক করুন

অনলাইন ডেস্কঃ

পাঁচ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সিলেটে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর খুলনা, গাজীপুর ও বরিশালে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। দলের দুজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী এই সিটিগুলোতে কাজ করছেন। তারা নিজেরাই প্রার্থী হিসেবে প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেকের পাশাপাশি শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল সমান্তরালভাবে তত্পর। বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী তত্পর রয়েছেন। একইভাবে গাজীপুরে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলম দুজনই সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তবে স্থানীয়ভাবে দলের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা যায়নি কেন্দ্র থেকে। এ কারণে এই এলাকাগুলোতে চূড়ান্ত প্রার্থী কে তা স্পষ্ট নয়। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শিগগির তারা প্রার্থিতা পরিষ্কার করে দেবেন। গ্রহণযোগ্য নেতাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন দিয়ে শুরু হবে সিটির ভোটযুদ্ধ। ১৩ মার্চে রয়েছে সংসদের দুটি আসনে উপনির্বাচন। এরপরই ধারাবাহিকভাবে পাঁচ সিটিতে ভোট আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে গাজীপুর সিটিতে ভোট হতে পারে মার্চ-এপ্রিলে। আর জুনের মধ্যে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ভোট করবে ইসি।

গাজীপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। পোস্টার-বিলবোর্ড ছেয়ে গেছে সিটির অলি-গলি থেকে রাজপথ। মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল। যদিও দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনকারী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুর রহমান কিরণও দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই নির্বাচনী তত্পরতা চালাচ্ছেন। তবে বছরের শুরুতেই সেই তত্পরতায় গতি পেয়েছে। ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। আবার বিলবোর্ডের মাধ্যমে নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে দাবি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের। তিনি দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করছেন। যদিও মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাইছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন আহমদ সেলিম। স্থানীয়ভাবে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। গত দুই নির্বাচনে লড়াই হয়েছে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও নগর বিএনপি সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের মধ্যে। এবারও নৌকা-ধানের শীর্ষের লড়াই হবে এই সিটিতে। ইতিমত্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেয়ে মাঠে নেমেছেন। ২০০৮ সালে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের এই সভাপতি। যদিও ২০১৩ সালের নির্বাচনে মেয়র পদ যায় বিএনপির ঘরে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে খায়রুজ্জামান লিটন মাঠে নেমেছেন। তিনি ওয়ার্ড পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন, করছেন উঠান বৈঠকও। খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালীন যে উন্নয়ন করেছেন, সেই উন্নয়নের কারণেই নগরবাসী আগামীতে নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন এমনটাই আশা নেতা-কর্মীদের। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও এ নির্বাচনকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আগেভাগেই প্রচারণায় নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলের প্রার্থিতা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের প্রচারণায় ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। নগরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টাঙানো পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে অলিগলি ছেয়ে গেছে। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, পাড়া-মহল্লার ক্লাব উন্নয়নে অনুদান, প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রে লবিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সরকারদলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। এবার খুলনা সিটিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া প্রচারণায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই তরুণ নেতা খুলনা সদর উপজেলা সভাপতি ও খুলনা চেম্বারের পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি যুবলীগ নেতা সরদার আনিছুর রহমান পপলু। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হকের নামও আলোচনায় আছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বরিশাল সিটির সম্ভাব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। আটঘাট বেঁধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তারা। যদিও এই সিটিতে আওয়ামী লীগ এখনো মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের একটি অংশ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির বড় ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহকে মেয়র পদে মনোনয়ন চান। তবে সাদিককে একক প্রার্থী মানতে নারাজ আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আফজালুল করিম, সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন আগামী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।