সেই বিড়ালটি এখন মন্ত্রীর বাসায় : নাম রাখা হয়েছে ‘ফেলু’ -

প্রবাসী বাংলা Live  টিভি ।।  ৫ মার্চ ২০১৬, শনিবার

সচিবালয়ে গাছের ডাল থেকে নামিয়ে আনা আহত বিড়ালটি এখন কৃষিমন্ত্রীর বাসার নতুন অতিথি। নাম রাখা হয়েছে ‘ফেলু’! তিনদিন অনাহারে থাকার পর বিড়ালটি এখন শুধু নিয়মিত খাবারই খাচ্ছে না, নাচানাচি ও দৌড়ঝাঁপও করছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বড় মগবাজারে রমনা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে কৃষিমন্ত্রীর বাসায় ঠাঁই হয় সচিবালয়ের গাছ থেকে উদ্ধার করা বিড়ালটির।
কৃষিমন্ত্রীর পিএস মোহাম্মদ শাহজালাল প্রবাসী বাংলাকে বলেন, বিড়ালটি সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনের নিচতলার ক্যান্টিনেই থাকত। মঙ্গলবার একটি কুকুর বিড়ালটির পিঠে সজোরে থাবা দিয়ে মাংস নিয়ে যায়। এরপর কুকুরটি আহত বিড়ালকে ধাওয়া দিলে জান বাঁচাতে ভবন সংলগ্ন গাছে গিয়ে ওঠে। সেই গাছে ছিল কাকের বাসা। কাকের উৎপাতে আহত বিড়ালটির প্রায় মরণদশা। কাকের ঠোকর আর উৎপাত থেকে রেহাই পেতে বিড়ালটি পাশের অন্য গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানেও ঝাঁকে ঝাঁকে কাকের চিৎকার, ঠোকর আর আক্রমণে বিড়ালটি প্রায় পড়েই যাচ্ছিল গাছ থেকে। এ অবস্থা লক্ষ্য করেছিল কৃষিমন্ত্রীর গাড়িচালক আজগর আলী। সে প্রথমে লোক দিয়ে বিড়ালটি নামানোর চেষ্টাও করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে খবর দিয়েছি ফায়ার সার্ভিসকে। প্রথমে ফায়ারের লোকজন আসতে চায়নি। কিন্তু মন্ত্রীর পরিচয় জেনে তারা বিশাল স্কাই লিফট এনে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা করে আহত বিড়ালটিকে নামিয়ে আনে। সচিবালয়ের ভিতরে বিরাট স্কাই লিফট দিয়ে বিড়াল উদ্ধারের এমন বিরল দৃশ্য উপভোগ করেন অনেকেই। উদ্ধারের পর ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কিছু খাবার ও ক্ষতস্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিকাল ৫টার দিকে বিড়ালটিকে ছেড়ে দেয় সচিবালয়ের ভিতরেই। কিন্তু বিড়ালটি ড্রাইভার আজগরের পিছু ছাড়ছিল না। খবরটি জেনে যান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। মন্ত্রী বিড়ালটিকে তার গাড়িতে তোলার নির্দেশ দেন। এরপর মন্ত্রীর বাসার নতুন সদস্য হিসেবে ঠাঁই পায় আলোচিত বিড়ালটি। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী গাড়িতে পূর্ণ প্রোটোকলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর রমনার অ্যাপাটমেন্টে যায় ফেলু।
মন্ত্রীর বাসায় বিড়ালটি এখন কেমন আছে জানতে চাইলে মন্ত্রীর পিএস মোহাম্মদ শাহজালাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাকে বলেন, বাসায় নেয়ার পরই মন্ত্রী মহোদয় বিড়ালটির নাম রাখেন ‘ফেলু’। সবাই ওকে ফেলে গিয়েছিল কিন্তু ও তো ফেলনা নয়। তাই মন্ত্রী নিজেই নাম দিয়েছেন ‘ফেলু’। বাসার একজন চিকিৎসক বিড়ালটির চিকিৎসাও দিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, মন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ও নিচে বিড়ালটিকে দেখে যান, রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরে আরও একবার দেখে উপরে উঠেন।

শুক্রবারও একাধিকবার বিড়ালটির খোঁজখবর নিয়েছেন স্বয়ং কৃষিমন্ত্রী নিজেই।

খাবার খেয়ে সবার আদর-যত্নে সুস্থ হয়ে উঠছে ফেলু। পিএস জানান, কৃষিমন্ত্রীর বাসায় বিভিন্ন সময়ে ৮-১০টি বিড়াল থেকেছে। টুলটুল, লাল্লা, ডাকুসহ বিভিন্ন নামের বিড়ালগুলো মন্ত্রীর বিশেষ আদর-যত্ন পায়। সুন্দরী, বুটু, পেত্নীসহ আরও বেশ কয়েকটি বিড়াল ছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি মারাও গেছে। সম্প্রতি একটি বিড়াল মারা যাওয়ায় কষ্ট ছিল মন্ত্রীর। এখন ফেলুকে পেয়ে সে কষ্ট ভুলছেন।