গরুর মূত্রে সোনা!

  ২৯  জুন ২০১৬, বুধবার 

ভারতের জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, গির জাতের গরুর মূত্রে তাঁরা সোনাজাতীয় দ্রবণ পেয়েছেন। ছবি: টিএনএনভারতের জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএইউ) বিজ্ঞানীরা চার বছর ধরে গবেষণা করে এমন এক তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা শুনলে মনে হতে পারে, এ-ও আবার সম্ভব! কিন্তু আসলেই তা সম্ভব বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। 
ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, বেশি দুধ দেওয়া গির জাতের গরুর মূত্রে তাঁরা নাকি সোনার উপস্থিতি পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। 
বিজয়সিন্ধ পার্মার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উট, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের মূত্র পরীক্ষায় সোনা পাওয়া যায়নি। কিন্তু গির জাতের গরুর মূত্রে সোনা পেয়েছেন। 
ভারতের গুজরাটের গির জাতের গাভি বেশি দুধ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত। তবে এই জাতের গরু ভারতজুড়ে পাওয়া যায়। গুজরাটের জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণাগারে এ জাতের ৪০০ গরুর মূত্র নমুনা হিসেবে নিয়ে পরীক্ষা করেন। চার বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁরা প্রতি এক লিটার গরুর মূত্রের নমুনায় ৩ থেকে ১০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত দ্রবণ হিসেবে সোনা চিহ্নিত করেন। ওই নমুনায় আয়োনিক আকারে সোনাজাতীয় দ্রবণ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন। আয়োনিককে গোল্ড সল্ট বলা হয়, যা সহজেই মিশে যায় পানিতে।
জেএইউর বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান ও বিজ্ঞানী বি এ গোলাকিয়ার নেতৃত্বে চালানো হয় ওই গবেষণা। গবেষণায় তাঁরা ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি (জিসি-এমএস) পদ্ধতি অনুসরণ করে মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করেন। ওই গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন জয়মিন, রাজেশ বিজয় ও শ্রদ্ধা।
বি এ গোলাকিয়া বলেন, ‘মূলত পুরাণ ধর্মগ্রন্থ ও চিকিৎসাশাস্ত্র থেকে আমরা জানতে পারি, গরুর মূত্রে সোনার উপস্থিতি রয়েছে। তবে এটা নিয়ে কেউ কোনো গবেষণা করেননি এবং কোনো তথ্য-প্রমাণও নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে এ বিষয়ে আমরা একটি গবেষণা করব। এরপরই আমরা ৪০০ গির জাতের গরুর মূত্র নমুনা হিসেবে নিয়ে গবেষণা করি। গবেষণায় ফলাফল পাওয়া যায় যে লবণাক্ত দ্রবণের মধ্যে আমরা সোনার উপস্থিতি পেয়েছি।’

বি এ গোলাকিয়া বলেন, রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিক্রিয়া ঘটিয়ে গরুর মূত্র থেকে সোনা পাওয়া যেতে পারে।

গির জাতের গরুর মূত্রে সোনা পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীতএই সোনা নিষ্কাশন করে রাসায়নিক পদ্ধতিতে তা কঠিন রূপ দেওয়া সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। উট, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের মূত্রও তাঁরা পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু এসব প্রাণীর মূত্রে তাঁরা আয়োনিক দ্রবণ পাননি। বি এ গোলাকিয়া বলেন, গির এলাকার গরুর মূত্রে ৫ হাজার ১০০ রকম মিশ্র পদার্থ বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। যেগুলোর মধ্যে ৩৮৮টি চিকিৎসাগতভাবে মূল্যবান। এর অর্থ হলো এগুলোর ব্যবহারে দুরারোগ্য নানা অসুখ সারানো সম্ভব। জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এবার দেশি ৩৯ জাতের গরুর মূত্র পরীক্ষা করবেন।
গোলাকিয়া আরও বলেন, ‘এখন আমরা মানুষ ও উদ্ভিদের প্যাথোজেনের ওপর গির গরুর মূত্র ব্যবহার-সংক্রান্ত গবেষণা নিয়ে কাজ করছি। মানুষের রোগের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে এখন গবেষণা চলছে।’
জেএইউর ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি ভারতের ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরি (এনএবিএল) কর্তৃক স্বীকৃত। জেএইউর ওই গবেষণাগারে রপ্তানি পণ্য, দুগ্ধ পণ্য, সবজি, ডাল, তৈলবীজ, মধু, কীটনাশক এবং অন্যান্য পণ্যসহ প্রায় ৫০ হাজার পণ্য বা দ্রব্য গড়ে প্রতিবছর পরীক্ষা করা হয়।