আওয়ামী লীগে নৈতিক অবক্ষয়, ব্যবস্থা না নিলেই সংকটে পড়বে দলটি

আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে নিজের জীবন-যৌবন বিলিয়ে দিয়েছেন, বিয়েও করেনি এমন নেতা দেশে বহু রয়েছে। তারা চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে থেকে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। রাজনীতিতে ত্যাগী নেতারা সারাজীবন রাজনীতি করে শেষ বয়সে এসে নিজের চিকিৎসার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেননি৷ অথচ বর্তমান রাজনীতিকদের অনেকেই কোটিপতি। তারা বুকে ব্যাথা অনুভব করলেও সিঙ্গাপুর গিয়ে ডাক্তার দেখান বলে জানান, আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির একজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

সমাজ ও রাজনীতিতে মন্দ মানুষের দাপটে এখন ভালো মানুষরা সম্পূর্ণ কোণঠাসা বা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রায় প্রতিটি বক্তৃতায় একটি বিষয়ের ওপর জোর দিতেন আর তা হচ্ছে দুর্নীতি। তার কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সেই অঙ্গীকার রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে দলের মাঝে কিছু ফ্রাঙ্কেনস্টাইন জন্ম হয়েছে, তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই বলছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শ্রী পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটি বৈঠকের কোন বিষয় আর এখান লুকোছাপানো অবস্থায় নেই। যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাদাঁবাজির টাকা হালাল করার জন্য আমার নামে দোয়া পড়ানো হয়েছে। এমন দোয়ার আমার প্রয়োজন নেই। তখন কি তার দলের সংগঠনের নেতাদের প্রতি ঘৃণা, কষ্ট ছাড়া অন্য কিছু ফুঁটে উঠে? তবে এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি কঠোর হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রী পিযূষ কান্তি ভট্টাচার্য।

তিনি আরও বলেন, দলের ভেতর ঘাপটি মারা দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও ভাবমূর্তি সংকটে ফেলার দায়ে দুষ্ট অনেক নেতা। এবার আর কাউকে ছাড় দিবেন না বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগেও আজ অবক্ষয় দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক যতীন সরকার। তিনি বলেন, স্বাধীনতা উত্তর রাজনীতি আর বর্তমান রাজনীতি আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তখন নীতি, নৈতিকতা ঠাসা ছিল রাজনীতিবীদের মাঝে। এখন রাজনীতি ত্যাগের না ভোগের হয়ে গেছে। আমার ক্ষুদ্র উপলব্ধি থেকে বলতে পারি, বর্তমান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। সৎ, যোগ্য ও দলের জন্য আজীবন নিবেদিতপ্রাণ মানুষগুলো সবসময় বঞ্চিত হন। আওয়ামী লীগের একটি শ্রেনীর মধ্যে ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় তৈরী হয়েছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে যে উগ্যোগ নিয়েছে এটা দলের জন্য দরকার ছিল। এটা না হলে খুব শীঘ্রই সঙকটে পড়তো মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ দলটি।

আরও পড়ুন