আজিমপুরে এসএম মহসিনের দাফন সম্পন্ন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা এসএম মহসিনকে। আজ রোববার বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তারপর পরীবাগ মসজিদে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয় বলে জানান অভিনেতার ছেলে রেজওয়ান মহসিন।

সম্প্রতি পাবনায় একটি সিনেমার শুটিং থেকে ফিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা এস এম মহসিন। ৫ এপ্রিল তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা ধরা পড়ে। ১০ এপ্রিল শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। টানা সাত দিন তিনি আইসিইউতেই ছিলেন। ১৩ দিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

আরও পড়ুন:

মিশা-জায়েদের কাঁধে ওয়াসিমের লাশ

 

এস এম মহসিন প্রায় চার দশক ধরে মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় করেছেন। শিল্পকলায় (অভিনয়) অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া টাঙ্গাইল অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এই অভিনেতা। তবে নানা অভিমানে কখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সার্টিফিকেট নিতে চাননি। তবে শেষ বয়সে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

 

এসএম মহসিন ভারতের দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় (এনএসডি) পড়াশোনা করেছেন। তিনি আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘রক্তে ভেজা’ ও ‘কবর’ এবং মুনীর চৌধুরী পরিচালিত ‘চিঠি’ ছাড়াও বহু টিভি, মঞ্চ ও রেডিও নাটকে অভিনয় করেছেন। ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলোশিপ লাভ করেন তিনি। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন শিল্পকলা পদকসহ বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা।

 

আরও পড়ুন