আজ বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের এই দিনে দলটির যাত্রা শুরু হয়। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটি এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপি এমন একটি সময়ে ৪২ বছরে পা রাখছে, যখন দলটির জন্য বলতে গেলে কোনো কিছুই অনুকূলে নেই। একাদশ নির্বাচনের চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের পর নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন কারাগারে। যার বন্দিজীবন কেবলই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিগগিরই তিনি মুক্তি পাবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। তার নির্দেশেই চলছে দল। তবে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়ায় দলকে খানিকটা হলেও বেগ পোহাতে হচ্ছে। বিএনপির নীতি-নির্ধারকেরা বলছেন, বিএনপিতে নেতৃত্বের সঙ্কট নেই। হতাশাগ্রস্ত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে স্বপ্ন জাগিয়ে তুলছেন তারা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই তাদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ।

বেশ কয়েকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপি এক দশকের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে। দেশের রাজনীতিতেও কার্যত কোণঠাসা। এছাড়া দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে। দ্বিতীয় প্রধান তারেক রহমান প্রায় একযুগ লন্ডনে নির্বাসিত রয়েছেন। এ রকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে একদিকে যেমন হতাশা সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে অপেক্ষায় রয়েছেন সোনালী সকালের।

দলীয় সূত্র জানায়, ৪২ তম বছরে বিএনপির কাউন্সিল, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গঠন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সোনালী সকাল উপহার দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএনপির হাই কমান্ড।

১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রাজধানীর রমনা রেস্তোরাঁয় দলের প্রতিষ্ঠাতা সে সময়ের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও প্রায় ২ ঘণ্টা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দলের আহ্‌বায়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথমে ১৮ জন সদস্যের নাম এবং ১৯শে সেপ্টেম্বর ওই ১৮ জনসহ ৭৬ সদস্যবিশিষ্ট আহ্‌বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অর্থে) এই ৪ মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্রায়ন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতার উত্থান ঘটানো। এগুলোর ভিত্তিতে জিয়াউর রহমান তার ১৯ দফা ঘোষণা করেন।

বিএনপি গঠন করার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল সে সময়ের উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮শে আগস্ট ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই জাগদল বিলুপ্ত ঘোষণা এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সব সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। গঠনের সময় থেকেই বিএনপি রাষ্ট্রপতি শাসন পদ্ধতির সরকার সমর্থন করে আসছিল। ১৯৮১ সালের ৩০মে চট্টগ্রামে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হলে সে সময়ের উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার বিএনপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অসুস্থ হলে ১৯৮৪ সালের ১০ই মে দলের চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছর ৩ মাস ধরে তিনি দলটির হাল ধরে আছেন। প্রতিষ্ঠার পর দলটি ৪ দফা ক্ষমতায় ছিল। ২ দফা ছিল জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল।

আরও পড়ুন