আবদুল গাফফার চৌধুরীর দাফন বাংলাদেশে

কালজয়ী একুশে গানের রচয়িতা, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী আর নেই। ১৯ মে বৃহস্পতিবার লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ খবর  প্রথমে নিশ্চিত করেন আবদুল গাফফার চৌধুরীর কেয়ারার জাহানারা ঝর্ণা। দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য কিডনি জনিত রোগে ভুগছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই প্রখ্যাত সাংবাদিক। তবে এপ্রিল মাসের শুরু থেকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কোভিড আক্রান্ত হয়ে।

মৃত্যুকালে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বয়স ছিলো ৮৮। তিনি ১৯৩৪ সালে ১২ ডিসেম্বর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লিখে গিয়েছেন।

আবদুল গাফফার চৌধুরী মারা যাওয়ার পর হাসপাতালে ভিড় করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। হাসপাতালে আবদুল গাফফার চৌধুরীর মেয়ে তনিমা চৌধুরী, ইন্দিরা চৌধুরী, চিন্ময় চৌধুরী, ছেলে অনুপম চৌধুরী এসে উপস্থিত হন। এরপরই বার্নেট হাসপাতালে উপস্থিত হন ব্রিটেনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা, যুবলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খানসহ আরো অনেকে।

 

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ মিশন প্রধান সাইদা মুনা তাসনিমের সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেছেন।

গাফফার চৌধুরীর ছোট মেয়ে বিনীতা চৌধুরী ১৩ এপ্রিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগেই গাফফার চৌধুরী কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হন। পূর্ব লণ্ডনে ব্রিকলেন জামে মসজিদে ২৯ এপ্রিল মেয়ে বিনীতা চৌধুরীর জানাজায় তিনি অংশ নিতে পারেননি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান নিশ্চিত করেন আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ বাংলাদেশে শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে তার স্ত্রীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, আজকে মরদেহ হাসপাতাল থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা যায়নি। সেক্ষেত্রে ২০ মে শুক্রবার মরদেহ ছাড়ানোর পর শনিবারে লন্ডনে প্রথম জানাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরই বাংলাদেশে মরদেহ পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন