উত্তাল সাগর, নিরাপদ আশ্রয়ে শত শত ফিশিং ট্রলার

সুস্পষ্ট লঘু চাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে আছড়ে পড়ছে বিশাল বিশাল ঢেউ। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে টিকতে না পেরে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে থাকা শত শত ফিশিং ট্রলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। সাগর থেকে উপকূলের ফিরে আসা এসব ফিশিং ট্রলার বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দুবলার চর, মেহেরআলীর চর, ভেদাখালীর অফিস খাল, কটকা, কচিখালী, হিরন পয়েন্ট, বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি ঘাট, শরণখোলার রাজেশ্বর, পূর্ব খোন্তাকাটা, রাজৈর, মোংলা, রামপাল,মোড়েলগঞ্জ, কুমারখালী, পিরোজপুরের পাড়েরহাট, রবগুনার পাথরঘাট, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুরে অবস্থান নিয়েছে। সুন্দরবন বিভাগ, ফিশিং ট্রলার মালিক মৎস্যজীবি সংগঠন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার (৯আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়ায় সাগর টিকতে না পেরে প্রায় অর্ধশত ফিশিং ট্রলার রবিবার থেকে ঘাটে নোঙর করে রয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে অনেক ট্রলারের জাল ছিড়ে গেছে। সেই ছেড়া জাল মাছের আড়তের চাতালে বসে মেরামত করতে দেখা গেছে জেলেদের।

এসময় কথা হয় এফবি রহিমুল্লাহ ট্রলারের মাঝি আউয়াল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, সাগরে পাহাড় সমান ঢেউ। জাল ফেলার উপায় নেই। ঢেউয়ে পড়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই তারা চলে এসেছেন। এফবি মা বুশরা ট্রলারের মালিক মো. বেলায়েত খান জানান, ঢেউয়ের আঘাতে সাগরে পেতে রাখা অনেক ট্রলারের জাল ছিড়ে গেছে। তার ট্রলারের জালও ছিড়েছে। এফবি মহিবুল্লাহ ট্রলারের মালিক মো. জামাল হাওলাদার জানান, তার ট্রলার এখনো ঘাটে ফেরেনি। সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে তার ট্রলারটি।

 

সমুদ্রগামী মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, দীর্ঘ ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে গত ২৩ জুলাই থেকে সাগরে শত শত ফিশিং ট্রলার ইলিশ আহরণ শুরু হয়। প্রথম দুই গোনে সাগরে তেমন ইলিশ পড়েনি। চলতি গোনে মাছ পড়তে শুরু করেছে। সব ট্রলারেই কমবেশি মাছ পাচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে বঙ্গোপসাগর অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে আছড়ে পড়ছে বিশাল বিশাল ঢেউ। সাগরে জাল ফেলতে পারছে না জেলেরা। উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে টিকতে না পেরে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণে থাকা শত শত ফিশিং ট্রলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগর অশান্ত হয়ে ওঠায় বাগেরহাট জেলার প্রায় ১৩ হাজার জেলে ফিশিং ট্রলার নিয়ে সাগর ছেড়ে এখন সুন্দরবনসহ কূলে অবস্থান করছে। শরণখোলার শতাধিক ট্রলার সুন্দরবন ও উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিরপাদ আশ্রয় নিয়েছে। ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই ৬৫ দিনের অবরোধ গেল। এর পরে সামনে অক্টোবরে আসছে ২২দিনের অবরোধ। তাছাড়া, মৌসুমে বেশিরভাগ সময় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর থাকে অশান্ত। এসময় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এতে ইলিশি মৌসুমের পাঁচ মাসের অর্ধেক সময় চলে যায় অবরোধ আর দুর্যোগে। যার ফলে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়হে হচ্ছে জেলে-মহাজনদের। লোকসানে পড়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে অনেকে পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাই জেলে-মহাজনদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে ৬৫ দিনের অবরোধ বাতিল করে একসঙ্গে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের ২২ দিনের অবরোধ আরো কয়েকদিন বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান এই মৎস্যজীবি নেতা।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে চারদিন ধরে সাগর ফুসে উঠছে। এ অবস্থায় সাগর থেকে কয়েক শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়ে থাকা এসব ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বনরক্ষীরা নিয়োজিত রয়েছে।

আরও পড়ুন