একজন বাবা এবং তার মেয়ের বড় হয়ে ওঠা, বয়ঃসন্ধিকাল ও ছেলে বন্ধু

আমার ঘরটি নানা রকমের প্রাণীতে পূর্ণ। আমার মেয়ে যখনই নানু বাড়িতে বেড়াতে যায়, ফেরার সময় প্রতিবারই কোনো না কোনো প্রাণী নিয়ে বাড়ি ফেরে সে। এভাবে একে একে আমাদের ঘরে এসেছে চারটি কচ্ছপ, একটি হার্মিত কাঁকড়া, একটি চিনচিলা, একটি গোল্ডফিশ এবং একটি ফরাসি বুলডগ। এমনকি মেয়েটি মেন ইন ব্ল্যাক সিনেমার সেই পাগলাটে চোখের কুকুরটিকেও বাড়িতে এনেছিল। তবে আমি ওটাকে আর ঘরে রাখতে দেইনি, দোকানে ফেরত পাঠিয়েছি।

 

আমার বান্ধবী আমাকে বলে যে আমি নাকি খুব সহজেই গলে যাই। আসলে আমি সবসময়ই মেয়েটাকে আগলে রাখতাম। এমনকি যখন আরো ছোট ছিল, আমিই তাকে খাইয়ে দিতাম। আমি যেখানেই যেতাম সে পিছু নিতো। তার মুখে কথার খই ফুটতো। সে আমাকে তার বন্ধুদের কথা বলতো। সেখানে বাচ্চাদের যত নাটকীয়তার গল্প থাকতো। এসবই আমার খুব ভালো লাগতো।

এখন সে বারোতে পা দিয়েছে। আমি আর আগের মতো বাপ-বেটির সেই সময়টাকে ফিরে পাই না। সময় বদলে যাচ্ছে। এখন সে কেবল জানায় যে তার দিনটা ভালোই গেছে। সে স্কুলের রিপোর্ট আমার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে। সে কিঞ্চিৎ মিথ্যে কথাও বলে।

তিন সপ্তাহ আগে আমার জন্মদিন ছিল। আমারা সবাই মিলে সাগরের কিনারের কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাবো ঠিক করলাম। বাধ সাধলো আমার মেয়ে, জানালো তার নাকি মোটেও ভালো লাগছে না। বললো, ‘ আমি ক্লান্ত’। ভাবলাম তার বোধহয় পিরিয়ড হয়েছে। তাই সে ঘরেই থাকুক। রেস্টুরেন্টের অর্ধেক পথ পেরিয়েছি, মনে পড়ল যে আমি আমার পরিচয়পত্রটি ফেলে এসেছি। ওটা নিয়ে আমি ফিরতি পথ ধরলাম। বাড়ির লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আমি। ওটার দরজা খুলতেই দেখি আমার মেয়ে তার কিছু ছেলে বন্ধুকে নিয়ে হলরুমে সময় কাটাচ্ছে। সে সুন্দর একটা পোশাক পরেছে। সে মেক-আপ করেছে, চোখে আইল্যাশ লাগিয়েছে, সবকিছু। ওহ না! আমার চক্ষু ছানাবড়া! বের হওয়ার সময় খেয়াল করলাম, মেয়েটার পরনে স্পঞ্জবব পাজামা।

আরও পড়ুন