এবার কাশ্মীর নিয়ে মুখ খুললেন মমতা

কাশ্মীর ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারই কাশ্মীর থেকে আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর মঙ্গলবার এই বিষয়ে মুখ খোলেন তিনি।

এদিন একদিকে যখন এই ইস্যুতে লোকসভা উত্তাল হয়ে উঠেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন, তিনি এই বিল সমর্থন করছেন না। এই বিল আনার আগে সবার সঙ্গে কথা বলা উচিৎ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দলকে বিষয়টা জানানো দরকার ছিল। কাশ্মীরিদের সঙ্গেও কথা বলা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা ২৪।

তৃণমূলনেত্রীর মতে কোনও বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ। তাই তাঁরা এই বিলে সমর্থন করছেন না এবং ভোটাভুটিতেও অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।

ওমর আব্দুল্লা ও মেহবুবা মুফতির গ্রেফতারি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাতে দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি বলেছেন, ‘ওরা সন্ত্রাসবাদী নয়। গনতন্ত্রের স্বার্থে ওদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।’

এদিকে লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করে গিয়েছে তৃণমূল। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘যদি আমরা ভোটাভুটির অংশ হই, সে ভোট পক্ষেই দিই বা বিপক্ষে, আমরা এই প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যাব। তাই আমরা ওয়াক আউট করছি।’

সোমবার সন্ধেতেই দুই তৃতীয়াংশ ভোটে পাশ হয়ে গিয়েছে কাশ্মীর সংক্রান্ত বিল। এই বিল অনুযায়ী আর্টিকল ৩৭০ এ তুলে নিল সরকার। সোমবার রাজ্যসভায় আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

অমিত শাহের এই প্রস্তাবে সোমবার উত্তাল হয় রাজ্যসভা। কাশ্মীরের ‘স্পেশাল স্টেটাস’, আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়া হতে পারে, রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবই দেন অমিত শাহ। রবিবার থেকেই এই বিষয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এরপর মধ্যরাতে ওমর আব্দুল্লাদের গৃহবন্দি করার পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়।

আর্টিকল ৩৭০-এর সাহায্যে ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৭০ বছরের ইতিহাস বলছে সম্পর্ক আরও বিগড়েছে। সেক্ষেত্রে, জম্মু ও কাশ্মীরকে আর আলাদা চোখে দেখতে রাজি নন নরেন্দ্র মোদী। ভারতের বাকি রাজ্য গুলির মতোই থাকবে জম্মু ই কাশ্মীর। ভয়ঙ্কর ভূ-স্বর্গ কে শান্ত করার অঙ্গীকার নিয়েছেন মোদী।

আরও পড়ুন