এম. আব্দুর রহিম বিরল গৌরবের অধিকারী করেছেন: স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন এম. আব্দুর রহিম। সেই সময়ে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। এম. আব্দুর রহিম ব্যক্তি জীবন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে কাজ করে আমাদের লাল সবুজের পতাকা দিয়ে গেছেন। তিনি বিরল গৌরবের অধিকারী করেছেন দিনাজপুরের মানুষকে। যে জাতি তাদের গুনি ব্যক্তির সম্মান দেয়, সেই জাতি নিজেদের শ্রেষ্ঠতর আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দিনাজপুর গোড়-এ শহীদ বড়ময়দানে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত, মহান মুক্তিযুদ্ধের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, ভাষা সৈনিক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর জননেতা এম. আব্দুর রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন।

এম. আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি অ্যাড. আজিজুল ইসলাম জুগলুর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম, বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন প্রমুখ।

স্পিকার মরহুম জননেতা এম. আব্দুর রহিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বলেন, এম. আব্দুর রহিম নিজের দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এমন ব্যক্তির জীবনী থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছুই শেখার আছে, করার আছে। তিনি আদর্শ, সৎ, নির্ভীক রাজনীতিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সকল নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। শিরীন শারমিন বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশের দারিদ্রতার হার শতকরা ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নিয়ে আসা হয়েছে। শতকরা ৯২ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের স্থলে বর্তমানে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, মন্দির-মসজিদ সর্বক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাবার নামে হাসপাতালের নামকরণ করেছেন। বাবার প্রতি সকলের ভালবাসা আমাদের ঋণী করেছে। দিনাজপুরের উন্নয়নের জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে।

আব্দুর রহিম শুধু দিয়েই গিয়েছেন। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ইনায়েতুর রহিম ও ইকবালুর রহিম নিজেদের গড়ে তুলেছেন। সততা ও নিষ্ঠার রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত ও উদাহরণ হতে পারেন আব্দুর রহিম।

একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যে থাকে ডিএনএ। ইকবালুর রহিম ও ইনায়েতুর রহিমের শরীরে তাদের বাবার সততা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ডিএনএ প্রবাহিত হচ্ছে। সন্তানের মাধ্যমেই বাবা-মায়ের নাম উজ্জ্বল হয়।

আরও পড়ুন