এসপির বক্তব্যের সঙ্গে নথিতে মিল দেখছি না : হাই কোর্ট

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিন দেওয়া হবে কি না, এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ। গতকাল মিন্নির জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ঠিক করেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ। শুনানির একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেছে, ‘ঘটনার সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততা থাকতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু তার বিষয়ে এসপি সাহেবের সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হলো, এর সঙ্গে সিডির (মামলার যাবতীয় নথি) মিল দেখছি না।’

গতকাল মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। হাই কোর্টে শুনানির সময় বরগুনার আদালতে মিন্নির আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলামও উপস্থিত ছিলেন। শুনানির শুরুতে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘মিন্নির তিন মাস আগে বিয়ে হয়। তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সে একজন নারী।’ তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ বা পুলিশ বলছে মিন্নি পরিকল্পনাকারী। তাদের এই বক্তব্য সঠিক যদি ধরেও নিই, তবে সেটা বিচারে প্রমাণিত হবে। তখন তার সাজা হবে কি হবে না তা নিয়ে বলার কিছু নেই। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। তাই জামিন চাইছি। জামিন দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এটা স্পর্শকাতর মামলা। তার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করার পর সে (মিন্নি) নয়ন বন্ডের সঙ্গে মোবাইলে পাঁচবার কথা বলেছে। ঘটনার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নয়ন বন্ডের সঙ্গে আটবার কথা বলেছে। এটা কি প্রমাণ করে না যে সে জড়িত?’ তিনি বলেন, ‘সে-ই (মিন্নি) ষড়যন্ত্রকারী। জামিন দিলে সে প্রভাবিত করতে পারে।’

আদালত উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীর মতামত জানতে চান। জবাবে এ আইনজীবী বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা বললেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। টিভিতে দেখেছি, মিন্নির বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত করার অভিযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘মেয়েটির বয়স কম। বলা হচ্ছে ১৯ বছর। তা ছাড়া মেয়েটি তার স্বামীকে হারিয়েছে। তাই এ পর্যায়ে তাকে জামিন দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করি না।’ শুনানিতে আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আজ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু হাই কোর্টে আসার কারণে তা দেওয়া যায়নি।’ এ সময় আদালতের দুই বিচারপতি মামলার সিডি (মামলার যাবতীয় নথি) খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। এরপর তা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে দেখতে বলেন। মামলার সিডি দেখার পর আদালত বলে, ‘এটা কি দেখে মনে হয় যে মিন্নি দোষ স্বীকার করেছে? আমরা তো দেখছি যে, সব সে এড়িয়ে গেছে।’ জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দোষ স্বীকার করেছে বলেই প্রতীয়মান হয়।’ এ সময় আদালত বলে, ‘ঘটনার সঙ্গে তার (মিন্নি) সম্পৃক্ততা থাকতেও পারে, নাও পারে। কিন্তু তার বিষয়ে এসপি সাহেবের সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হলো, এর সঙ্গে সিডির মিল দেখছি না।’

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এসপি সাহেব নিজে থেকে বলেননি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন। এর জবাব দিয়েছেন তিনি।’ আদালত বলে, ‘আপনার দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। মিন্নি ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছে কি না? এসপি সাহেব বলছেন, করেছে। মিন্নি স্বীকার করেছে বলে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’ জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন।’ আদালত বলে, ‘যত বড় জায়গা, যত বড় দায়িত্ব। তাকে ততটা সচেতন থাকতে হয়।

আরও পড়ুন